মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব তেলের বাজারে—সরবরাহ সংকটে কতটা প্রস্তুত ভারত?

দেশজুড়ে ডেস্ক

দেশজুড়ে ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১ মার্চ ২০২৬ , ১২:১২ এএম

অনলাইন সংস্করণ

ইরানকে কেন্দ্র করে ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার প্রভাব আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের শোধনাগারগুলোতে ধারাবাহিক হামলার ঘটনায় বৈশ্বিক অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

সাম্প্রতিক হামলার পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ইরানের রাজধানী তেহরানের একটি প্রধান তেল ডিপোতে শনিবার রাতে হামলার ঘটনার পর সোমবারের ট্রেডিং সেশনে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২৩ ডলার বেড়ে ১০৩ ডলারে পৌঁছেছে।

আর্থিক বাজারে ট্রেডিং সেশন বলতে সেই নির্দিষ্ট সময়কে বোঝায়, যখন বাজারে কেনাবেচা কার্যক্রম চালু থাকে এবং বিনিয়োগকারীরা লেনদেন করতে পারেন।


এদিকে বাড়তে থাকা অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে বিশ্বের উন্নত অর্থনীতির জোট জি দেশগুলো তাদের কৌশলগত তেলের মজুত থেকে বিপুল পরিমাণ তেল ছাড়ার বিষয়ে আলোচনা করছে। ধারণা করা হচ্ছে, পরিস্থিতি সামাল দিতে তারা ৩০০ থেকে ৪০০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল বাজারে সরবরাহ করতে পারে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাপানের অর্থমন্ত্রী সাতসুকি কাতায়ামা জানিয়েছেনআন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) জি দেশগুলোকে ধাপে ধাপে তাদের কৌশলগত রিজার্ভ ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে।


আইইএ-তে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যের মতো সদস্য দেশ ছাড়াও ভারত চীনের মতো দেশগুলো সহযোগী হিসেবে যুক্ত রয়েছে। সংস্থাটির ৩০টি সদস্য দেশ রয়েছে এবং প্রত্যেক সদস্য দেশের কমপক্ষে ৯০ দিনের প্রয়োজনীয় তেলের মজুত রাখার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ববাজারে সরবরাহ সংকট দীর্ঘায়িত হলে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে, যার প্রভাব পড়বে বৈশ্বিক অর্থনীতি জ্বালানি নির্ভর দেশগুলোর ওপর।


উল্লেখ্য, জাপান তার মোট তেল চাহিদার প্রায় ৯৫ শতাংশ আমদানির ওপর নির্ভরশীল এবং দেশটির কাছে বিশ্বের অন্যতম বড় কৌশলগত তেলের মজুত রয়েছে।


 দেশজুড়ে/ সবুজ