লেবাননে ইসরাইলি তৎপরতা ঘিরে উদ্বেগ, দুই সপ্তাহে নিহত প্রায় ৬০০

প্রকাশিত: ১৪ মার্চ ২০২৬ , ১২:০৫ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

লেবানন সীমান্তে সাম্প্রতিক সময়ে ইসরাইলি সামরিক তৎপরতা বাড়ায় আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, গাজায় ব্যবহৃত ইসরাইলের সামরিক কৌশলের অনুরূপ পদ্ধতি এখন লেবাননেও দেখা যাচ্ছে, যার ফলে ব্যাপক মানবিক সংকট তৈরি হচ্ছে।

 

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম Al Jazeera-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত দুই সপ্তাহের কম সময়ে লেবাননে প্রায় ৬০০ জন নিহত হয়েছেন। একই সময়ে লাখ ৫০ হাজারের বেশি মানুষ নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন।

 

বিশ্লেষকদের মতে, এই কৌশলের অংশ হিসেবে প্রথমে নির্দিষ্ট এলাকা খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়। অনেক ক্ষেত্রে মানুষের জীবনধারণের উপায় ধ্বংস করে তাদের এলাকা ছাড়তে বাধ্য করা হয়। পরে সেখানে অবকাঠামো ধ্বংস করে তথাকথিতবাফার জোনবা নিরাপত্তা বলয় তৈরির চেষ্টা করা হয়।

 

ধরনের কৌশল আগে ফিলিস্তিনের গাজা পশ্চিম তীরেও প্রয়োগ করা হয়েছিল বলে পর্যবেক্ষকদের দাবি। বর্তমানে একই ধরণের উচ্ছেদ নির্দেশ মানচিত্র ব্যবহার করে বৈরুত দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

ইতোমধ্যে দক্ষিণ লেবানন বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চল খালি করার নির্দেশ জারি করা হয়েছে। অনেক স্কুল আশ্রয়কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর্মী চিকিৎসা অবকাঠামোও হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

 

তবে সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, গাজা লেবাননের পরিস্থিতি এক নয়। গাজায় অবরুদ্ধ অবস্থায় সীমিত রসদ নিয়ে লড়াই করছে Hamas, অন্যদিকে লেবাননে শক্তিশালী সামরিক সক্ষমতা দীর্ঘদিনের প্রস্তুতি রয়েছে Hezbollah-এর। ফলে দক্ষিণ লেবানন বেকা উপত্যকায় ইসরাইলি স্থল অভিযানে শক্ত প্রতিরোধের মুখে পড়ার কথাও বলা হচ্ছে।

 

এদিকে Iran ইঙ্গিত দিয়েছে যে, লেবাননের পরিস্থিতি ভবিষ্যতের যেকোনো যুদ্ধবিরতি আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হবে।

 

আন্তর্জাতিক মহলে সমালোচনা থাকলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর জবাবদিহিতার ব্যবস্থা দেখা যাচ্ছে না। পর্যবেক্ষকদের মতে, আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ বাড়লেও তা বাস্তবায়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি।

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে আন্তর্জাতিক আইন কার্যকর করা এবং বাস্তুচ্যুত মানুষদের নিরাপদে ঘরে ফেরার অধিকার নিশ্চিত করাই সবচেয়ে জরুরি।


দেশজুড়ে/সবুজ