দেশজুড়ে ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৬ মার্চ ২০২৬ , ১০:৫৩ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আস্থা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক পরিসরে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সম্পর্ককে বাংলাদেশ সব সময় গুরুত্ব দিয়ে দেখে।
শুক্রবার রাজধানীতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় কূটনীতিকদের সম্মানে আয়োজিত এক ইফতার অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, বিদেশি মিশনের প্রতিনিধিরা, মন্ত্রিসভার সদস্য ও সংসদ সদস্যরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
ইফতারের আগে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই আয়োজন শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং এটি বিভিন্ন জাতি, ধর্ম ও সংস্কৃতির মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সম্মান ও সহমর্মিতার গুরুত্ব তুলে ধরে। তাঁর মতে, শান্তিপূর্ণ ও সহনশীল সমাজ গঠনে এই মূল্যবোধ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সরকারের অর্থনৈতিক পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, ব্যবসা পরিচালনার পরিবেশ আরও সহজ করতে নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণ নীতি অনুসরণ করা হবে। একই সঙ্গে দায়িত্বশীল বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরি করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এর মাধ্যমে দেশের জনগণ ও বেসরকারি খাতের সম্ভাবনাকে আরও বিকশিত করার লক্ষ্য রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
পররাষ্ট্রনীতির প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পারস্পরিক স্বার্থ, আস্থা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান রেখে ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব’ নীতিকে সামনে রেখে বাস্তববাদী ও টেকসই কূটনীতি পরিচালনা করা হবে। ভবিষ্যতেও বিভিন্ন দেশের সঙ্গে উন্মুক্ত আলোচনা ও সহযোগিতা জোরদার করার ব্যাপারে বাংলাদেশ আগ্রহী থাকবে।
তিনি আরও জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার জন্য সরকার প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, উদ্যোগ ও উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করে এমন উদার অর্থনৈতিক নীতি অনুসরণ করা হবে এবং প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তি হিসেবে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বকে আরও শক্তিশালী করা হবে।
বাংলাদেশ বর্তমানে নতুন সম্ভাবনার এক গুরুত্বপূর্ণ সময়ে রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর ও টেকসই অর্থনীতি গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য। এর মাধ্যমে তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি, নারীর ক্ষমতায়ন, উদ্যোক্তা তৈরি এবং সবার জন্য সমৃদ্ধি নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এ ছাড়া কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রসার, পাঠ্যক্রমে তৃতীয় ভাষা সংযোজন এবং গ্রামীণ এলাকায় প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি, যাতে উন্নয়নের সুফল দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত পৌঁছে যায়।
দেশজুড়ে/ সবুজ