দেশজুড়ে ডেস্ক
প্রকাশিত: ২১ এপ্রিল ২০২৬ , ১২:৩৮ এএম
অনলাইন সংস্করণ
জ্বালানি
তেলের সরবরাহ ও বাজার পরিস্থিতি
নিয়ে জাতীয় সংসদে সরকার ও বিরোধী দলের
মধ্যে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। আলোচনা কোন বিধিতে হবে—এ নিয়ে মতবিরোধ
থাকলেও শেষ পর্যন্ত দুই পক্ষ সমঝোতায় পৌঁছেছে।
সোমবার
(২০ এপ্রিল) সংসদের অধিবেশনে বিরোধীদলীয় নেতার একটি মুলতবি প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে এ বিতর্ক শুরু
হয়। প্রস্তাবে জ্বালানি সংকট ও এর প্রভাবে
জনজীবনে সৃষ্ট সমস্যাগুলো নিয়ে জরুরি আলোচনা দাবি করা হয়। একই ধরনের আরেকটি প্রস্তাবও উত্থাপন করা হয়।
তবে
ডেপুটি স্পিকার প্রস্তাবগুলো তাৎক্ষণিকভাবে গ্রহণ না করে জানান,
বিষয়টি ইতোমধ্যে সংসদে বিভিন্ন বিধিতে আলোচনা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী পূর্বেই বিবৃতি দিয়েছেন। নতুন করে আলোচনা করতে হলে যথাযথ বিধিতে নোটিশ দিতে হবে।
এতে
অসন্তোষ প্রকাশ করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, দেশের জনগণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলোর একটি নিয়ে যদি সংসদে আলোচনা করার সুযোগ না দেওয়া হয়,
তবে তা দুঃখজনক। তিনি
দাবি করেন, সরকারি বক্তব্যে সংকট না থাকলেও বাস্তবে
জনগণ জ্বালানি সংকটে ভুগছে।
জবাবে
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ এবং আলোচনার যোগ্য। তবে সংসদের কার্যক্রম মুলতবি না করেও নিয়ম
অনুযায়ী এ বিষয়ে আলোচনা
করা সম্ভব। তিনি উল্লেখ করেন, অতীতে খুব কম ক্ষেত্রেই মুলতবি
প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং ইতোমধ্যে চলতি অধিবেশনে একাধিকবার এ সুযোগ দেওয়া
হয়েছে।
সরকারের
পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, দেশে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের কোনো
ঘাটতি নেই এবং তা পরিসংখ্যান দিয়ে
তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে পাচার রোধ ও বাজার নিয়ন্ত্রণে
রাখতে সীমিত পরিসরে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করা হয়েছে।
অন্যদিকে
বিরোধীদলীয় নেতা পাল্টা যুক্তি দিয়ে বলেন, বাস্তব পরিস্থিতি সরকারি বক্তব্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য বিভিন্ন ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা আরোপই সংকটের ইঙ্গিত দেয়।
বিতর্কের
এক পর্যায়ে সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। জনগণের সমস্যা তুলে ধরার সুযোগ না থাকলে সংসদে
থাকার যৌক্তিকতা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেন।
শেষ
পর্যন্ত ডেপুটি স্পিকার উভয় পক্ষের মতামত বিবেচনা করে জানান, নিয়মিত কার্যক্রম চালু রেখেই আগামী তিন দিনের মধ্যে এক থেকে দেড়
ঘণ্টা সময় নিয়ে এ বিষয়ে আলোচনা
করা যাবে। এতে সরকার ও বিরোধী দল
উভয়েই সম্মতি জানায়।
স্পিকারও
জানান, বিরোধীদলীয় নেতা আনুষ্ঠানিক নোটিশ দিলে বিষয়টি নিয়ে অর্থবহ আলোচনার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।