দেশজুড়ে ডেস্ক
প্রকাশিত: ২১ এপ্রিল ২০২৬ , ০১:৪৮ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
বাংলাদেশ
নারী ক্রিকেটে নতুন সম্ভাবনার নাম জুয়াইরিয়া ফেরদৌস জয়িতা। প্রতিকূলতা আর সামাজিক বাধা
অতিক্রম করে নিজের স্বপ্নপূরণের পথে এগিয়ে চলেছেন এই উদীয়মান ক্রিকেটার।
বাংলাদেশের
আর্থ-সামাজিক বাস্তবতায় খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে নেওয়া এখনো অনেকের কাছে ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত। তার ওপর একজন নারী হলে সেই পথ আরও কঠিন
হয়ে ওঠে। তবে সব বাধা উপেক্ষা
করে নিজের জায়গা তৈরি করছেন জয়িতা।
ঝিনাইদহে
জন্ম ও বেড়ে ওঠা
জয়িতার ক্রীড়াজীবনের শুরুটা ক্রিকেট দিয়ে নয়। হকি ছিল তার প্রথম ভালোবাসা। পাশাপাশি কাবাডি ও অ্যাথলেটিকসের থ্রো
ইভেন্টেও দারুণ পারদর্শিতা দেখিয়েছেন তিনি। ২০২৩ সালের যুব গেমসে শটপুট, হকি ও কাবাডিতে স্বর্ণপদক
জিতে নিজের বহুমুখী প্রতিভার প্রমাণ দেন।
তবে
শেষ পর্যন্ত ক্রিকেটই তাকে টেনে আনে নতুন পথে। ২০২০ সালে ঢাকায় এক হকি ইভেন্টে
অংশ নিতে এসে বিকেএসপির নারী ক্রিকেট ট্রায়ালের খবর পান তার মা, যিনি নিজেও একজন ক্রীড়া শিক্ষক। মায়ের উৎসাহেই ট্রায়ালে অংশ নিয়ে প্রায় ২০০ প্রতিযোগীর মধ্যে জায়গা করে নেন জয়িতা। সেখান থেকেই শুরু তার ক্রিকেট যাত্রা।
বিকেএসপির
প্রশিক্ষণে ধাপে ধাপে নিজেকে গড়ে তোলেন তিনি। প্রথম বিভাগ ক্রিকেটে ব্যাট হাতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হওয়া এবং উইকেটকিপিংয়ে শীর্ষে থাকা তাকে এনে দেয় অনূর্ধ্ব-১৯ দলের ডাক।
অল্প সময়ের মধ্যেই জাতীয় দলের পর্যায়েও জায়গা করে নেন।
ক্রিকেট
ক্যারিয়ার গড়তে গিয়ে তাকে ছাড়তে হয়েছে প্রিয় খেলা হকি। যদিও কোচরা তাকে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন, তবু নিজের লক্ষ্য স্থির রেখে ক্রিকেটেই এগিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।
ব্যাটিং
পজিশনেও এসেছে পরিবর্তন। মিডল অর্ডার থেকে ওপেনিংয়ে উঠে এসে পাওয়ার প্লে কাজে লাগানোর দক্ষতায় নিজেকে কার্যকর ওপেনার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করছেন জয়িতা।
নেপালে
টি-টোয়েন্টি অভিষেকের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে যাত্রা শুরু হলেও নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন তিনি। বড়
ইনিংস খেলতে না পারার আক্ষেপ
তাকে আরও উন্নতির দিকে ধাবিত করছে।
আগামীতে
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজকে ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখছেন জয়িতা। নিজের প্রথম ওয়ানডে সিরিজে দলকে জয়ে সহায়তা করা এবং বড় ইনিংস খেলার
লক্ষ্য তার।
ক্রিকেটের
পাশাপাশি পড়াশোনাও চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের
তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী জয়িতা ভবিষ্যতে ক্রীড়া সাংবাদিকতায় যুক্ত হওয়ারও আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
তার
এই পথচলা প্রমাণ করে—পরিবারের সমর্থন, কঠোর পরিশ্রম এবং দৃঢ় মানসিকতা থাকলে যেকোনো স্বপ্নই বাস্তবে রূপ নেওয়া সম্ভব।