দেশজুড়ে ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৪ এপ্রিল ২০২৬ , ০২:২৪ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
আসন্ন
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ ঘিরে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে ইরানকে নিয়ে বিতর্ক। বিশ্বকাপ শুরুর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর বিশেষ দূত
পাওলো জাম্পোলির এক মন্তব্যে ফুটবল
বিশ্বে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। তিনি ইরানকে সরিয়ে ইতালিকে বিশ্বকাপে অন্তর্ভুক্ত করার পরামর্শ দেন।
তবে
এই বিতর্কের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র সরকার তাদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপে অংশ নিতে ইরানের খেলোয়াড়দের জন্য কোনো বাধা নেই।
বৃহস্পতিবার
হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানি খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণে আপত্তি করে না এবং তাদের
দেশে আসতে নিষেধও করা হয়নি।
তবে
তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্তও উল্লেখ করেন। রুবিও জানান, ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট
কোনো ব্যক্তিকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না। যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যেই এই সংস্থাকে বিদেশি
সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে।
রুবিও
বলেন, সমস্যা খেলোয়াড়দের নিয়ে নয়, বরং তাদের সঙ্গে আসা কিছু ব্যক্তিকে নিয়ে, যাদের মধ্যে আইআরজিসি সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে। তিনি স্পষ্ট করে জানান, এ ধরনের কাউকে
সাংবাদিক বা প্রশিক্ষক পরিচয়ে
যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।
এদিকে
ফিফা সভাপতি জিয়ানি ইনফান্তিনো নিশ্চিত করেছেন যে ইরান বিশ্বকাপে
অংশ নিচ্ছে। ইরানের ম্যাচ অন্য দেশে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তাবও তিনি নাকচ করেছেন।
অন্যদিকে,
ইরান সরকার ইতোমধ্যে বিশ্বকাপ প্রস্তুতি শুরু করেছে। দেশটির সরকারি মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহেজেরানি জানিয়েছেন, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের
নির্দেশনায় জাতীয় দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি
সম্পন্ন করা হয়েছে।
তবে
এখনো একটি বড় প্রশ্ন রয়ে গেছে—দলের সঙ্গে থাকা কর্মকর্তাদের মার্কিন ভিসা পাওয়া। এর মধ্যে রয়েছেন
ইরান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহদি তাজ, যিনি আগে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি পাননি।
সব
মিলিয়ে, বিশ্বকাপ সামনে রেখে ইরানকে ঘিরে কূটনৈতিক ও ক্রীড়া উত্তেজনা
এখনও পুরোপুরি কাটেনি।