দেশজুড়ে, ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ০২:২৩ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
ইরানের
বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে কৌশলগত আলোচনা চলছে। এমন প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প প্রশাসনের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি হামলা চালানোর আগে ইসরাইল যদি ইরানে আঘাত হানে, তাহলে তা ওয়াশিংটনের জন্য
রাজনৈতিকভাবে সুবিধাজনক হতে পারে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকো আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুটি সূত্রের বরাত দিয়ে জানায়, প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টাদের একটি অংশ চান—যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপের আগে ইসরাইল এগিয়ে আসুক। তাদের ধারণা, ইসরাইলের হামলার জবাবে ইরান প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নিলে যুক্তরাষ্ট্র তখন মিত্রদের সহায়তায় সামরিকভাবে জড়াতে পারে, যা অভ্যন্তরীণভাবে সমর্থন অর্জনে সহায়ক হতে পারে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তারা বলেন, ইসরাইল আগে আক্রমণ করলে এবং পরবর্তীতে ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে লক্ষ্য করে প্রতিক্রিয়া দেখালে, তখন মার্কিন পদক্ষেপের পক্ষে রাজনৈতিক যুক্তি তুলে ধরা সহজ হবে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এমন পরিস্থিতিতে সামরিক পদক্ষেপকে আত্মরক্ষামূলক বা মিত্র সহায়তা
হিসেবে উপস্থাপন করা সম্ভব।
পলিটিকোর প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, যে পক্ষই প্রথমে
হামলা করুক না কেন, তেহরানের
বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ
সামরিক অভিযান সম্ভাব্য একটি বিকল্প হিসেবে বিবেচনায় রয়েছে। একটি সূত্র জানায়, ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা চলমান থাকলেও ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মহলে সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না।
তবে সম্ভাব্য মার্কিন হামলার পরিধি ও মাত্রা এখনো
স্পষ্ট নয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক সম্পদ ব্যস্ত হয়ে পড়লে তা চীনের মতো
প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তিকে তাইওয়ান ইস্যুতে আরও সক্রিয় হতে উৎসাহিত করতে পারে।
আরেকটি সূত্র সতর্ক করে বলেছে, ইরানে শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে বড় পরিসরের হামলা
হলে তেহরান তাদের সক্ষমতা অনুযায়ী কঠোর প্রতিশোধ নিতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন ঘাঁটি ও স্থাপনা রয়েছে,
যেগুলোর সবই উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আওতায় নয়। ফলে সম্ভাব্য সংঘাতে মার্কিন হতাহতের ঝুঁকি এবং রাজনৈতিক ক্ষতির আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
এই
প্রতিবেদনটির তথ্যসূত্র হিসেবে পলিটিকোর বরাত উল্লেখ করেছে টাইমস অব ইসরাইল।
দেশজুড়ে/সবুজ