ইরান যুদ্ধ নিয়ে আপত্তি: অংশ নিতে চান না অনেক মার্কিন সেনা

দেশজুড়ে ডেস্ক

দেশজুড়ে ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০ মার্চ ২০২৬ , ১১:৩২ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাতে অংশ নেওয়া নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অনেক সেনাসদস্যের মধ্যে অনীহা তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেছে একটি অলাভজনক সংস্থা। যুদ্ধের বিরুদ্ধে আপত্তি জানাতে অনেক সেনা সদস্য তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘সেন্টার অন কনসায়েন্স অ্যান্ড ওয়ারনামের সংগঠনটির ফোনে প্রায় অবিরাম কল আসছে। এসব কলে অনেক মার্কিন সেনা সদস্য ইরানসংক্রান্ত সম্ভাব্য যুদ্ধে অংশ নিতে আপত্তি জানাচ্ছেন।

সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, ইরান যুদ্ধ নিয়ে সেনাদের মধ্যে বিরোধিতা দ্রুত বাড়ছে। তিনি এটিকে ২০০৩ সালে ইরাক আক্রমণের সময় দেখা দেওয়া সামরিক সদস্যদের আপত্তির সঙ্গেও তুলনা করেন।


সংস্থাটির আরেক কর্মকর্তা মাইক প্রিসনার জানান, প্রকাশ্যে যে তথ্য এসেছে তার চেয়েও বেশি সেনা ইউনিটকে সক্রিয় করা হয়েছে বলে তাদের কাছে তথ্য রয়েছে। ফলে অনেক সেনা সদস্য আগেভাগেই নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে চাইছেন।

এদিকে গত সপ্তাহে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে বিশেষ বাহিনী পাঠানোর বিষয়টি বিবেচনা করছে। পাশাপাশি বড় আকারে সেনা মোতায়েনের সম্ভাবনাও আলোচনায় রয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে।


এর মধ্যেই মার্কিন সেনাবাহিনী তাদের ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের কিছু সদস্যের একটি বড় প্রশিক্ষণ মহড়া বাতিল করেছে বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট যুক্তরাষ্ট্রে আবার বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগ বাড্রাফটচালু করার সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করেননি। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রে সর্বশেষ ১৯৭২ সালে ভিয়েতনাম যুদ্ধের শেষ দিকে বাধ্যতামূলক সেনা নিয়োগ কার্যক্রম চালু ছিল।

সেন্টার অন কনসায়েন্স অ্যান্ড ওয়ারমূলত এমন ব্যক্তিদের সহায়তা করে, যারা নৈতিক বা ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে অস্ত্র ধরতে বা সামরিক বাহিনীতে সক্রিয় ভূমিকা নিতে অস্বীকৃতি জানান। যুক্তরাষ্ট্রে কোয়েকার অ্যামিশ সম্প্রদায়ের মধ্যে ধরনের অবস্থানের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে।


সংস্থাটি দাবি করেছে, সম্ভাব্য যুদ্ধ নিয়ে সেনাদের উদ্বেগ গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের তুলনায় আরও বিস্তৃত হতে পারে। অনেক সেনা সদস্য নিজেদের ইউনিটের মধ্যেও যুদ্ধবিরোধী মনোভাবের কথা উল্লেখ করছেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাম্প্রতিক একটি হামলার ঘটনায় বেসামরিক হতাহতের খবর সামনে আসার পরও বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনের অবস্থান নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ঘটনাকে ঘিরে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগও দেখা দিয়েছে।


সূত্র: মিডল ইস্ট আই