ইরান আক্রমণে ট্রাম্পকে চাপ দিয়ে যাচ্ছিলেন সৌদি যুবরাজ: ওয়াশিংটন পোস্টের বিশ্লেষণ

দেশজুড়ে, ডেস্ক

দেশজুড়ে, ডেস্ক

প্রকাশিত: ০২ মার্চ ২০২৬ , ১২:১৬ এএম

অনলাইন সংস্করণ

ইরানে সামরিক হামলার সিদ্ধান্তের পেছনে সৌদি আরবের জোরালো কূটনৈতিক তৎপরতার ইঙ্গিত দিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট  পত্রিকাটির বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান কয়েক সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে উৎসাহিত করছিলেন।

প্রতিবেদনে নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের বরাতে বলা হয়, গত এক মাসে যুবরাজ ট্রাম্পের সঙ্গে একাধিকবার সরাসরি যোগাযোগ করেন। প্রকাশ্যে তিনি কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে অবস্থান নিলেও ব্যক্তিগত আলোচনায় ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।

 

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও দীর্ঘদিন ধরে ইরানকে তার দেশের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হিসেবে উল্লেখ করে যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আসছিলেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, সৌদি আরব ইসরায়েলের সমন্বিত তদবিরের পরই ইরানে ব্যাপক হামলার সিদ্ধান্ত আসে।

 

হামলার সময় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ দেশটির কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়েছে। তবে বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

 

একই সময়ে সৌদি আরব আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানায়, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো হামলায় তাদের আকাশসীমা বা ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। অবস্থানকে বিশ্লেষকরা কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা হিসেবে দেখছেন।

 

মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়নে বলা হয়েছিল, অন্তত আগামী এক দশকেও ইরান সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডের জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে উঠবে না। তবুও হামলার সিদ্ধান্ত নেওয়াকে অনেকে বড় নীতিগত পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন।

 

হামলার পর আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ইরান পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে, আর উপসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

 

বিশ্লেষকদের মতে, শিয়া-প্রধান ইরান সুন্নি নেতৃত্বাধীন সৌদি আরবের দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা এই সংকটকে আরও জটিল করে তুলেছে। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা এখনো অনিশ্চিত।

 

 দেশজুড়ে/সবুজ