দেশজুড়ে, ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ১০:৫৩ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
আফগানিস্তান
ও পাকিস্তানের মধ্যে কয়েক মাস ধরে চলা সীমান্ত উত্তেজনা নতুন করে তীব্র আকার নিয়েছে। বৃহস্পতিবার আফগান বাহিনী সীমান্তবর্তী এলাকায় পাকিস্তানি সামরিক অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালায় বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। এর জবাবে পাকিস্তান
রাতেই আফগানিস্তানের কাবুল ও কান্দাহার অঞ্চলে
পাল্টা আঘাত হানে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ পরিস্থিতিকে ‘প্রকাশ্য যুদ্ধ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
তবে
বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাত বড়
আকারের যুদ্ধে রূপ নিলে তা দীর্ঘ সময়
ধরে চালিয়ে যাওয়া পাকিস্তানের জন্য কঠিন হবে।
সুইডেনভিত্তিক গবেষক ও দক্ষিণ এশিয়া
বিশ্লেষক আবদুল সায়েদ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরাকে বলেন,
পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি
পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরুর পথে বড় বাধা হয়ে
দাঁড়াতে পারে। তাঁর মতে, দুই দেশের জনগণের মধ্যে দীর্ঘদিনের সামাজিক ও পারিবারিক সম্পর্ক—বিশেষ করে ডুরান্ড লাইনের দুই পাশে বসবাসকারী উপজাতিদের বন্ধন—সংঘাতকে জটিল করে তুলেছে।
২ হাজার ৬৪০
কিলোমিটার দীর্ঘ ডুরান্ড লাইন ঘিরে বসবাসকারী বহু পরিবার দুই দেশের সীমানা অতিক্রম করে আত্মীয়তার বন্ধনে আবদ্ধ। বিশ্লেষকদের ধারণা, বড় ধরনের সামরিক
অভিযান শুরু হলে এসব অঞ্চলে মানবিক সংকট তৈরি হতে পারে, যা রাজনৈতিকভাবে পাকিস্তানের
জন্য চাপের কারণ হবে।
সামরিক সক্ষমতার দিক থেকে পাকিস্তান এগিয়ে থাকলেও আফগানিস্তানের বর্তমান শাসকগোষ্ঠী তালেবান অতীতে দীর্ঘ সময় ধরে বিমান হামলা মোকাবিলার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। আবদুল সায়েদের মতে, তালেবানের সামরিক শক্তি পাকিস্তানের তুলনায় সীমিত হলেও তারা সম্ভাব্য বিমান অভিযানের মুখে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়বে—এমনটি মনে করে না।
তালেবানের বক্তব্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, তারা সামরিক অসমতাকে অস্তিত্বের সংকট হিসেবে দেখছে না। বরং অতীতের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে নিজেদের টিকে থাকার সক্ষমতার ওপর আস্থা রাখছে। একই সঙ্গে তাদের বিশ্বাস, দেশের ভেতরে এমন কোনো সংগঠিত ও গ্রহণযোগ্য বিকল্প
রাজনৈতিক শক্তি নেই, যারা তালেবান দুর্বল হলে দ্রুত ক্ষমতা গ্রহণ করতে পারবে।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি দ্রুত কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে না আনলে তা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। দক্ষিণ এশিয়ার এই দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা ও অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
দেশজুড়ে/সবুজ