দেশজুড়ে, ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৩ মার্চ ২০২৬ , ১২:০১ এএম
অনলাইন সংস্করণ
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার পর উদ্ভূত উত্তেজনা দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্ব অর্থনীতি বড় ধরনের ধাক্কা খেতে পারে বলে সতর্ক করেছেন অর্থনীতিবিদরা। তাদের আশঙ্কা, তেল ও গ্যাসের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেলে উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি ও মন্থর প্রবৃদ্ধির সমন্বয়ে ‘স্ট্যাগফ্লেশন’ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
নতুন অয়েল শকের আশঙ্কা
সংঘাতের প্রভাবে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে বলে জানা গেছে। এই প্রণালি দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ সামুদ্রিক তেল পরিবাহিত হয়। ফলে জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
সোমবার (২ মার্চ) আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম একদিনে প্রায় ৯ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৭৯.৩০ ডলারে দাঁড়ায়। দিনের শুরুতে দাম সাময়িকভাবে ৮০ ডলারও ছাড়িয়ে যায়। ইউরোপীয় বেঞ্চমার্ক গ্যাসের দামও ৫০ শতাংশের বেশি লাফিয়ে ওঠে।
আরও পড়ুন : মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা: আমিরাত-বাহরাইনে ২ বাংলাদেশি নিহত, কুয়েতে আহত ৪ — উদ্বেগে সরকার
অর্থনীতিবিদ সিলভাইন বারসিঙ্গারের মতে, পরিস্থিতি ১৯৭৩ ও ১৯৭৯ সালের তেল সংকট এবং ২০২২ সালের গ্যাস সংকটের পর সম্ভাব্য তৃতীয় ‘অয়েল শক’-এর ঝুঁকি তৈরি করছে। কিছু বিশ্লেষক ধারণা করছেন, তেলের দাম ১১০ ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে, যদিও তা ২০০৮ সালের ১৪০ ডলারের রেকর্ডের নিচে থাকবে।
বিশ্ব বাণিজ্যে বাড়তি চাপ
আইএনজি ব্যাংকের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থা এমনিতেই নানা কারণে চাপে রয়েছে। এর মধ্যে নতুন সংঘাত বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে আসতে পারে। উপসাগরীয় অঞ্চলের আকাশপথ আংশিক বন্ধ থাকায় ইউরোপ-এশিয়া রুটে বিমান চলাচলেও বিঘ্ন ঘটছে।
রাজনৈতিক ঝুঁকি বিশ্লেষক রুবেন নিজার্ডের মতে, সামুদ্রিক মালবাহী ব্যয় বেড়ে গেলে তা সরাসরি মুদ্রাস্ফীতিকে উসকে দেবে। এতে বিশ্ব অর্থনীতিতে স্ট্যাগফ্লেশনের ঝুঁকি আরও বাড়বে।
বৈশ্বিক অর্থনীতিতে সম্ভাব্য প্রভাব
ন্যাটিক্সিস ব্যাংকের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে দীর্ঘমেয়াদি অচলাবস্থা বাজারের স্থিতিশীলতা, মূল্যস্ফীতি এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। বিশেষ করে চীন বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়তে পারে, কারণ দেশটি ওই পথ দিয়ে আসা জ্বালানির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।
ফ্রান্সের একটি কৌশলগত গবেষণা প্রতিষ্ঠানের পরিচালক সিরিল পইরিয়ার-কুটানসাইস বলেন, চীনের শিল্প উৎপাদন সচল রাখতে পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়াতে পারে। তবে বিশ্লেষকদের ধারণা, ইউরোপের ওপর প্রভাব ২০২২ সালের গ্যাস সংকটের তুলনায় তুলনামূলক কম হতে পারে।
দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের অর্থনৈতিক ঝুঁকি
বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাত কতদিন স্থায়ী হয় এবং কতটা বিস্তৃত হয়—তার ওপরই অর্থনৈতিক প্রভাব নির্ভর করবে। আইএনজি ব্যাংক সতর্ক করেছে, দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতায় জ্বালানি ব্যয় ও লজিস্টিক সমস্যার কারণে বৈশ্বিক বাণিজ্যের পরিমাণ কমে যেতে পারে।
কোফাসের এক পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, যদি ব্রেন্ট ক্রুডের দাম দীর্ঘ সময় ধরে ব্যারেলপ্রতি ১৫ ডলার বেশি থাকে, তবে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি প্রায় ০.২ শতাংশ কমে যেতে পারে এবং মুদ্রাস্ফীতি প্রায় অর্ধ শতাংশ পয়েন্ট বাড়তে পারে।
ভঙ্গুর বৈশ্বিক অর্থনীতির প্রেক্ষাপটে এ ধরনের প্রভাবকে মোটেও হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই বলে মত বিশ্লেষকদের।
দেশজুড়ে/সবুজ