যুদ্ধের ছায়ায় সমুদ্রে ঈদ: আটকে থাকা জাহাজেই নামাজ আদায় বাংলাদেশি নাবিকদের

প্রকাশিত: ২০ মার্চ ২০২৬ , ০৭:১৭ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের মধ্যে পারস্য উপসাগরে আটকে থাকা একটি জাহাজেই পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করেছেন বাংলাদেশি নাবিকরা। ক্ষেপণাস্ত্র ড্রোন হামলার সতর্কতার মধ্যেও সীমিত আয়োজন আর মানসিক দৃঢ়তায় দিনটি উদযাপন করেছেন তারা।

শুক্রবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১০টায় বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) জাহাজ বাংলার জয়যাত্রাএর নেভিগেশন ব্রিজে ৩১ জন নাবিক একসঙ্গে ঈদের নামাজ আদায় করেন।

 

বর্তমানে জাহাজটি প্রায় ১০ দিন ধরে পারস্য উপসাগরে অবস্থান করছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলী বন্দরে পণ্য খালাস শেষে হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করলেও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তা সম্ভব হয়নি। ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রইসরায়েল উত্তেজনার জেরে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে জাহাজ চলাচল কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।

 

জাহাজটির মাস্টার ক্যাপ্টেন মো. শফিকুল ইসলাম খান জানান, “প্রতিবার ঈদে জাহাজে আমরা আনন্দ করি, তবে এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। তারপরও সবাই মিলে দিনটি ভালোভাবে কাটানোর চেষ্টা করছি।তিনি বলেন, সকালে কিছুটা বৃষ্টি বাতাস থাকলেও বড় কোনো বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেনি, যদিও সতর্কতা জারি ছিল।

 

ঈদের নামাজ শেষে নাবিকরা একসঙ্গে ছবি তোলেন এবং দিনটি কাটান গান, সিনেমা আড্ডায়। বিশেষ খাবারের আয়োজনও ছিলসকালে সেমাই, নুডলস, খেজুর, ডিম জুস; দুপুরে পোলাও, উটের মাংস, গরুর মাংস স্মোকড ফিশ পরিবেশন করা হয়।

 

জাহাজের প্রধান প্রকৌশলী রাশেদুল হাসান বলেন, “ঈদের দিন পরিবারের সঙ্গে কথা বলে কিছুটা স্বস্তি পেয়েছি। যুদ্ধের চাপ কাটানোর চেষ্টা করছি সবাই মিলে।

 

উল্লেখ্য, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি কাতার থেকে স্টিল কয়েল নিয়ে জাহাজটি জেবেল আলী বন্দরে পৌঁছায়। এর পরপরই সংঘাত শুরু হলে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। ১১ মার্চ হরমুজ প্রণালি পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয় জাহাজটি। এরপর থেকেই তারা পারস্য উপসাগরে অবস্থান করছে।

 

নাবিকদের দেশে ফেরার সময় এখনো অনিশ্চিত। নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত জাহাজটি উপসাগর ছাড়তে পারবে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।


দেশজুড়ে/সবুজ