প্রকাশিত: ০৬ মার্চ ২০২৬ , ০৩:০৭ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
রাজধানীর
বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে আজ শুক্রবার ছুটির
দিনেও জ্বালানি তেল নিতে মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। কোথাও দীর্ঘ লাইনের কারণে যানজট সৃষ্টি হয়েছে, আবার কোথাও সীমিত পরিমাণে তেল বিক্রি করা হচ্ছে।
শুক্রবার
দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পরীবাগের মেঘনা মডেল সার্ভিস সেন্টার ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, তেল নেওয়ার জন্য মোটরসাইকেল ও প্রাইভেট কারের
দীর্ঘ লাইন। স্টেশনটির সামনে থেকে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল হয়ে শাহবাগ মেট্রোরেলের নিচ পর্যন্ত গাড়ির সারি দেখা যায়। লাইনে আগে–পরে দাঁড়ানো নিয়ে কয়েকজন মোটরসাইকেল চালকের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক ও হাতাহাতির ঘটনাও
ঘটে।
উবারচালক নাজমুল হাসান জানান, তিনি শাহবাগ মেট্রো স্টেশনের নিচ থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে প্রায় ৫০ মিনিট অপেক্ষার
পর তেল নিতে পেরেছেন। এই সময়ের মধ্যে
তিনি দুই থেকে তিনটি ভাড়া পেতে পারতেন বলেও জানান। তিনি বলেন, প্রতিদিন ৪০০ থেকে ৫০০ টাকার তেল লাগে। তেল ছাড়া তাঁর উপার্জনের কোনো উপায় নেই, তাই ভবিষ্যতে তেল সংকট হলে কী হবে তা
নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন।
তবে স্টেশনটির সহকারী ব্যবস্থাপক আহমেদ রুশদ দাবি করেন, তাদের স্টেশনে তেলের কোনো ঘাটতি নেই। মানুষ আতঙ্কিত হয়ে বেশি করে তেল নিতে আসায় ভিড় বেড়েছে।
এদিকে দৈনিক বাংলা মোড়ের বিনিময় ফিলিং স্টেশনে সকাল ১১টার দিকে মোটরসাইকেলে সর্বোচ্চ ২০০ টাকা এবং প্রাইভেট কারে ৫০০ টাকার বেশি তেল দেওয়া হচ্ছিল না। স্টেশনের কর্মীরা আগেই গ্রাহকদের এই সীমাবদ্ধতার কথা
জানিয়ে দিচ্ছিলেন।
সেখানে তেল নিতে আসা সজীব রহমান জানান, তিনি ফরিদপুর যাওয়ার জন্য অন্তত চার লিটার তেল নিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সীমাবদ্ধতার কারণে তা সম্ভব হয়নি।
এতে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
স্টেশনটির এক কর্মচারী বলেন,
তাদের মজুত কম থাকায় সবাইকে
অল্প অল্প করে তেল দেওয়া হচ্ছে।
মতিঝিলের শাপলা চত্বরের পাশে করিম অ্যান্ড সন্স ফিলিং স্টেশনেও মোটরসাইকেল ও প্রাইভেট কারের
দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। স্টেশনটির কোষাধ্যক্ষ মো. সোহাগ জানান, আগে ডিপো থেকে বেশি তেল এলেও এখন তুলনামূলক কম আসছে। এছাড়া
অনেক গ্রাহক এখন ট্যাংক পূর্ণ করে তেল নিচ্ছেন, ফলে চাহিদা বেড়ে গেছে।
ব্যাংক কর্মকর্তা মো. মামুন হোসেন জানান, তিনটি ফিলিং স্টেশন ঘুরে অবশেষে তিনি এখানে এসে তেল নিতে পেরেছেন।
অন্যদিকে রাজারবাগ সার্ভিস স্টেশনে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সাধারণ গাড়িকে তেল দেওয়া হচ্ছে না। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সেখানে কেবল অ্যাম্বুলেন্স, পুলিশ ও সরকারি গাড়িসহ
জরুরি যানবাহনকে তেল নিতে দেখা যায়।
স্টেশনটির কোষাধ্যক্ষ মো. মহিউদ্দিন বলেন, সাধারণত শুক্র ও শনিবার ডিপো
থেকে তেল আসে না। আগে যেখানে তিন গাড়ি তেল পাওয়া যেত, এখন দেওয়া হচ্ছে একটি। ফলে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া তেল দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে জ্বালানি তেল সরবরাহ নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা
এবং ইরানের পাল্টা হামলার ঘটনায় উত্তেজনা বাড়ছে। এছাড়া হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় অনেকেই তেল মজুত করতে শুরু করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ
বিভাগ জানিয়েছে, দেশে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। তাই আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত তেল কেনার প্রয়োজন নেই।