দেশজুড়ে ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৩ মার্চ ২০২৬ , ০২:১২ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
বিয়ের
আনন্দে পরেছিলেন লাল শাড়ি, হাতে ছিল মেহেদির রঙ। নতুন জীবনের স্বপ্ন নিয়ে বরযাত্রার সঙ্গে শ্বশুরবাড়ির উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন নববধূ মার্জিয়া আক্তার মিতু। কিন্তু সেই আনন্দময় যাত্রাই শেষ হয়ে যায় মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায়। লাল শাড়িতে যাওয়া মিতু শেষ পর্যন্ত নিজ বাড়িতে ফিরলেন সাদা কাফনে মোড়ানো নিথর দেহ হয়ে।
বাগেরহাটের
রামপাল উপজেলার বোলাই ব্রিজ এলাকায় বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিকেলে
ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় নববধূ মিতুসহ ১৪ জন নিহত
হন। নিহতদের মধ্যে মিতুর ছোট বোন লামিয়া (১১) ও দাদি রাশিদা
বেগম (৭৫) রয়েছেন।
খুলনা জেলার কয়রা উপজেলার নাকশা গ্রামের বাসিন্দা মিতুর বিয়ে হয় বুধবার রাতে রামপাল এলাকার আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে সাব্বির হোসেনের সঙ্গে। পরদিন সকালে নববধূ মিতু তার ছোট বোন ও দাদিকে নিয়ে শ্বশুরবাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন।
পথিমধ্যে খুলনা–মোংলা মহাসড়কের রামপাল উপজেলার বোলাই ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে বরযাত্রীবাহী মাইক্রোবাসটির সঙ্গে মোংলা থেকে আসা নৌবাহিনীর একটি স্টাফ বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই নববধূ, বরসহ মাইক্রোবাসে থাকা ১৪ জনের প্রাণহানি
ঘটে।
দুর্ঘটনার পর নিহতদের মরদেহ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে ময়নাতদন্ত শেষে শুক্রবার (১৩ মার্চ) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে মিতুসহ একই পরিবারের তিনজনের মরদেহ তাদের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়।
সকালে উত্তর নাকশা গ্রামে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাদের দাফন সম্পন্ন করা হয়।
এদিকে মেয়েদের মরদেহ দেখে ভেঙে পড়েন মিতুর বাবা ছালাম মোড়ল। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বারবার বলছিলেন, “আমার মায়েরা কোথায়? আমি একটু তাদের দেখব।” তার আহাজারিতে উপস্থিত অনেকেই চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি।
এক মুহূর্তেই বিয়ের আনন্দ রূপ নেয় গভীর শোকে। একসঙ্গে তিন স্বজনকে হারিয়ে শোকে স্তব্ধ হয়ে আছে পুরো পরিবার ও গ্রাম।