দেশজুড়ে, ডেস্ক
প্রকাশিত: ০২ মার্চ ২০২৬ , ১১:৪৫ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
কুড়িগ্রাম
সদর হাসপাতালে আফরোজা বেগম (৪২) নামে এক প্রসূতির মৃত্যুকে
কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার (২ মার্চ) বিকেলে
এ ঘটনা ঘটে। মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে হাসপাতাল চত্বরে বিক্ষোভ করেন নিহতের স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
পরিস্থিতি
ক্রমেই অস্থির হয়ে উঠলে চিকিৎসক ও নার্সরা কর্মবিরতি
শুরু করেন। এতে হাসপাতালজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়।
স্বজনদের অভিযোগ, কুড়িগ্রাম শহরতলির হিঙ্গনরায় ডাকবাংলা এলাকার বাসিন্দা আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী আফরোজা বেগম প্রসবজনিত জটিলতা নিয়ে বিকেলে হাসপাতালে আসেন। তবে ভর্তি প্রক্রিয়ায় কাগজপত্রের জটিলতার কথা বলে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে ভর্তি না করে বিলম্ব
করা হয়। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার কারণে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে বলে দাবি পরিবারের।
নিহতের স্বজন আপেয়ারা বেগম, দরদী ও লিলি বেগম
জানান, রোগীর অবস্থা গুরুতর হওয়ায় দ্রুত চিকিৎসার অনুরোধ করা হলেও দায়িত্বপ্রাপ্তদের পক্ষ থেকে সময়ক্ষেপণ করা হয়। তাদের দাবি, প্রায় এক ঘণ্টা পর
ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। এর মধ্যে রোগীর
অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে।
পরিবারের আরও অভিযোগ, মৃত্যুর পর পরিস্থিতি সামাল
দিতে রোগীর শরীরে স্যালাইন দেওয়া শুরু করা হয়। প্রতিবাদ জানাতে গেলে জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক শুভর নেতৃত্বে কয়েকজন কর্মী স্বজনদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও মারধর করেন
বলেও অভিযোগ তোলা হয়েছে।
তবে ইমারজেন্সি মেডিক্যাল অফিসার শুভ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, নিয়ম অনুযায়ী ভর্তি ছাড়া চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব নয়। তিনি দাবি করেন, স্বজনরা নিয়ম ভেঙে চিকিৎসা দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করছিলেন। মারধরের অভিযোগও তিনি নাকচ করেন এবং সিসিটিভি ফুটেজ যাচাইয়ের আহ্বান জানান।
ঘটনার পর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক
নুর নেওয়াজ আহমেদের কার্যালয় সাময়িকভাবে বন্ধ পাওয়া যায়। পরে মুঠোফোনে তিনি জানান, উভয় পক্ষের কিছু অপেশাদার আচরণ ছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে কুড়িগ্রাম সিভিল সার্জন ডা. স্বপন কুমার বিশ্বাস বলেন, ঘটনা সম্পর্কে তিনি অবগত হয়েছেন এবং অনানুষ্ঠানিকভাবে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। সত্যতা নিশ্চিত হলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
ঘটনাটি
ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
দেশজুড়ে/সবুজ