প্রকাশিত: ০৪ মার্চ ২০২৬ , ১২:৩১ এএম
অনলাইন সংস্করণ
ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলা এবং এর জবাবে তেহরানের পাল্টা আঘাতের পর মধ্যপ্রাচ্যে যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে, তা এখন বৈশ্বিক কূটনীতির কেন্দ্রে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ একেকটি পক্ষের সমর্থনে অবস্থান নিলেও, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য না করায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকার নিজ দেশেই সমালোচনার মুখে পড়েছে।
চীন, রাশিয়া, মালয়েশিয়াসহ কয়েকটি দেশ ইরানের ওপর হামলার নিন্দা জানিয়ে খামেনির মৃত্যুর ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অবস্থানকে সমর্থন জানিয়েছে কিছু পশ্চিমা ও আঞ্চলিক শক্তি।
ভারত সরকার এ পরিস্থিতিতে সরাসরি কোনো পক্ষ না নিয়ে ‘শান্তি ও স্থিতিশীলতা’ বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে। সংঘাতময় পরিবেশে সংশ্লিষ্ট সব দেশকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বানও জানিয়েছে নয়াদিল্লি। তবে খামেনির মৃত্যু নিয়ে নির্দিষ্ট কোনো মন্তব্য না করায় কূটনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে।
সংঘাতের প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সোমবার বাহরাইনের বাদশাহ হামাদ বিন ঈসা আল খলিফা, সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান এবং জর্ডানের বাদশাহ আব্দুল্লাহর সঙ্গে টেলিফোনে আলোচনা করেন। এর আগেই তিনি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গেও কথা বলেন বলে জানা গেছে।
ইরানের সঙ্গে ভারতের ঐতিহাসিক ও কৌশলগত সম্পর্কের প্রসঙ্গ টেনে বিরোধী দল কংগ্রেস মোদী সরকারের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে প্রকাশিত এক উত্তর সম্পাদকীয় প্রবন্ধে কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধী সরকারের পররাষ্ট্রনীতিকে সংবিধানের চেতনার সঙ্গে ‘অসঙ্গতিপূর্ণ’ বলে মন্তব্য করেন। বামপন্থী দলসহ অন্যান্য বিরোধী দলও একই ইস্যুতে সরকারের কূটনৈতিক অবস্থানকে সমালোচনা করছে।
এছাড়া, প্রধানমন্ত্রী মোদীর ইসরায়েল সফর ও সফরকালে দেওয়া বক্তব্য নিয়েও নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত ভারতের জন্য কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে—বিশেষত যখন ইরান ও ইসরায়েল—উভয় দেশের সঙ্গেই ভারতের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক রয়েছে।
পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তনের মধ্যে ভারত শেষ পর্যন্ত কী অবস্থান নেয়, তা এখন নজরে রাখছে আন্তর্জাতিক মহল।