কাশ্মীরে ইরানের জন্য মানবিক ঢল: স্বর্ণ-গয়না ও কোটি টাকার সহায়তা দান

দেশজুড়ে ডেস্ক

দেশজুড়ে ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৩ মার্চ ২০২৬ , ১০:৪১ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ভারতের জম্মু কাশ্মীরে দেখা যাচ্ছে এক ব্যতিক্রমী মানবিক উদ্যোগ। ইরানের জনগণের প্রতি সংহতি জানিয়ে কাশ্মীরের বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা স্বর্ণ, রূপা, গয়না নগদ অর্থ দান করছেন।

ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআই-এর তথ্য অনুযায়ী, বুদগাম জেলার খান্দা গ্রামের নারীরা নিজেদের স্বর্ণালংকার দান করে ইরানের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন। তাদের ভাষায়, কঠিন সময়ে সহমর্মিতা দেখানোই মানবিক দায়িত্ব।

 

ঈদুল ফিতরের পর কাশ্মীরের শিয়া অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে স্বেচ্ছাসেবীরা ঘরে ঘরে গিয়ে ত্রাণ সংগ্রহ করছেন। শুধু নগদ অর্থ বা গয়না নয়, অনেকেই গবাদিপশু ঐতিহ্যবাহী তামার সামগ্রীও দান করছেন। সংগৃহীত এসব সহায়তা ভারতে অবস্থিত ইরানের দূতাবাসের মাধ্যমে পাঠানো হচ্ছে, যাতে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো যায়।

 

সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা গেছে, নারীরা সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে গয়না জমা দিচ্ছেন, আর শিশুরা তাদের ঈদের উপহার হিসেবে পাওয়া অর্থ দান করছে। এমনকি এক আইনজীবী তার পরিবারের কাছ থেকে প্রায় ৩১ লাখ রুপি সংগ্রহ করে দিয়েছেন বলেও জানা গেছে।

 

স্থানীয় সংগঠকদের দাবি, পর্যন্ত দানের পরিমাণ কয়েক কোটি রুপিতে পৌঁছেছে, যার মধ্যে সোনা-রূপার মূল্যও অন্তর্ভুক্ত। এসব সম্পদ নগদে রূপান্তর করে অনুমোদিত চ্যানেলের মাধ্যমে ইরানের দূতাবাসে পাঠানো হচ্ছে।

 

ভারতে অবস্থিত ইরানের দূতাবাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই সহায়তার ছবি ভিডিও প্রকাশ করে কাশ্মীরের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে। এক বার্তায় তারা মানবিক সহায়তা সংহতির জন্য কাশ্মীরের মানুষের উদারতার প্রশংসা করেছে।

 

এই উদ্যোগের পেছনে রয়েছে ইরানে চলমান সংঘাত পরিস্থিতি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলের হামলার খবরে কাশ্মীরের মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

 

সমাজের সব স্তরের মানুষনারী, পুরুষ শিশুরাএই ত্রাণ কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন। অনেক নারী তাদের মূল্যবান গয়না দান করেছেন। এমনকি এক বিধবা তার স্বামীর স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে বহু বছর ধরে সংরক্ষিত একটি সোনার অলঙ্কারও দান করেছেন।

 

রাজনৈতিক পর্যায়েও উদ্যোগে সম্পৃক্ততা দেখা গেছে। বুদগামের স্থানীয় এমএলএ মুনতাসির মেহদি ইরানের জনগণের সহায়তায় নিজের এক মাসের বেতন দানের ঘোষণা দিয়েছেন।

 

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, যুদ্ধবিধ্বস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোই মানবিক দায়িত্ব। তাদের বিশ্বাস, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ধরনের সহায়তা বাড়লে দুর্ভোগে থাকা মানুষের কষ্ট কিছুটা হলেও লাঘব হবে।

 

ভারতীয় গণমাধ্যমের তথ্যমতে, ইরানের দূতাবাস সামাজিক মাধ্যমে সহায়তার আহ্বান জানানোর পর থেকেই গত এক সপ্তাহ ধরে কাশ্মীরজুড়ে এই দান কার্যক্রম আরও জোরদার হয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সংগৃহীত অর্থ সম্পদ যথাযথ প্রক্রিয়ায় ইরানের ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।


দেশজুড়ে/সবুজ