এইচএসসি ২০২৬ প্রস্তুতি: বাংলা ২য় পত্রের জন্য শিখে নাও বাংলা উচ্চারণের প্রয়োজনীয় নিয়ম।

দেশজুড়ে ডেস্ক

দেশজুড়ে ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৯ মার্চ ২০২৬ , ১২:৪৯ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

বাংলা ভাষার শুদ্ধ উচ্চারণ শেখার ক্ষেত্রেধ্বনির সঠিক ব্যবহার জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলা ব্যাকরণে এই ধ্বনিগুলোর উচ্চারণের কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে, যা জানা থাকলে শব্দ উচ্চারণ আরও স্পষ্ট শুদ্ধ হয়। শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে নিচেধ্বনির বিবৃত উচ্চারণ এবং আদ্য, মধ্য অন্তধ্বনির গুরুত্বপূর্ণ নিয়মগুলো উদাহরণসহ তুলে ধরা হলো।

ধ্বনির বিবৃত উচ্চারণের পাঁচটি নিয়ম

. দুই অক্ষরবিশিষ্ট সর্বনাম বা অব্যয় পদেধ্বনির বিবৃত উচ্চারণ হয়।
উদাহরণ: এত (অ্যাত), এখন (অ্যাখন), হেন (হ্যান), কেন (ক্যান)

. অনুস্বার চন্দ্রবিন্দুর আগেধ্বনির বিবৃত উচ্চারণ হয়।
উদাহরণ: চেংড়া (চ্যাংড়া), খেংড়া (খ্যাংড়া), স্যাঁতসেঁতে।

. খাঁটি বাংলা শব্দে অনেক সময়ধ্বনি বিবৃতভাবে উচ্চারিত হয়।
উদাহরণ: খেমটা (খ্যামটা), তেলাপোকা (ত্যালাপোকা), দেওর (দ্যাওর)

. সংখ্যাবাচক শব্দেএকএবংএকযুক্ত শব্দেধ্বনির বিবৃত উচ্চারণ হয়।
উদাহরণ: এক চোট, এক তলা, এক ঘরে।

. ক্রিয়াপদের বর্তমান কালের অনুজ্ঞা বা সাধারণ মধ্যম পুরুষেধ্বনি বিবৃত হয়।
উদাহরণ: দেখ (দ্যাখ), দেখো (দ্যাখো), খেল (খ্যাল), খেলো (খ্যালো)


বাংলা উচ্চারণে আদ্যধ্বনির পাঁচটি নিয়ম

. আদ্য’-এর পরে , , , থাকলে উচ্চারণ অনেক সময়’-এর মতো হয়।
উদাহরণ: অতি (ওতি), করি (কোরি)

. আদ্য’-এর পরে -ফলা থাকলে উচ্চারণ’-এর মতো হয়।
উদাহরণ: গদ্য (গোদ্দো), গণ্য (গোন্নো)

. আদ্য’-এর পরে -কারযুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনি থাকলে উচ্চারণ’-এর মতো হয়।
উদাহরণ: মসৃণ (মোসৃণ), বক্তৃতা (বোক্তৃতা)

. এক অক্ষরবিশিষ্ট শব্দেথাকলে উচ্চারণ’-এর মতো হয়।
উদাহরণ: গণ (গোন), মন (মোন)

. আদ্য’-এর পরে ক্ষ, জ্ঞ, গ্য থাকলে উচ্চারণ’-এর মতো শোনা যায়।
উদাহরণ: দক্ষ (দোক্খো), অক্ষ (ওক্খো)


বাংলা উচ্চারণে মধ্যধ্বনির তিনটি নিয়ম

. তিন বা ততোধিক বর্ণের শব্দে মধ্য’-এর আগে যদি , , , -কার থাকে, তবে’-এর উচ্চারণ’-এর মতো হয়।
উদাহরণ: মতন (মতোন), পাগল (পাগোল)

. সমাসবদ্ধ শব্দে মধ্যঅনেক সময়’-এর মতো উচ্চারিত হয়।
উদাহরণ: বনবাসী (বনোবাশি), লোকনাথ (লোক্নাথ)

. মধ্য’-এর আগে , , , , বা -ফলা থাকলেও উচ্চারণ’-এর মতো হয়।
উদাহরণ: লাবণী (লাবোনী), কাকলি (কাকোলি)


বাংলা উচ্চারণে অন্তধ্বনির পাঁচটি নিয়ম

. বিশেষণ বা বিশেষ্য পদে অন্তঅনেক সময়’-এর মতো উচ্চারিত হয়।
উদাহরণ: বড় (বড়ো), ভালো (ভালো)

. দ্বিরুক্ত শব্দ বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত হলে অন্ত’ ‘’-এর মতো হয়।
উদাহরণ: কাঁদ কাঁদ (কাঁদো কাঁদো), পড় পড় (পড়ো পড়ো)

. [আন/আনো] প্রত্যয়যুক্ত শব্দে অন্তিম’ ‘’-এর মতো উচ্চারিত হয়।
উদাহরণ: শেখান (শেখানো), পাঠান (পাঠানো)

. তর তম প্রত্যয়যুক্ত বিশেষণে অন্তিমপ্রায়ই’-এর মতো উচ্চারণ হয়।
উদাহরণ: উচ্চতর (উচ্চতরো), অধিকতর (অধিকতরো)

. ১১১৮ সংখ্যাবাচক শব্দে অন্ত’ ‘’-এর মতো উচ্চারিত হয়।
উদাহরণ: সতের (সতেরো), তের (তেরো)

 

দেশজুড়ে/ সবুজ