দাউদকান্দিতে চুলা জ্বালাতে গিয়ে বিস্ফোরণ: স্ত্রীর পর স্বামীরও মৃত্যু

দেশজুড়ে ডেস্ক

দেশজুড়ে ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৮ মার্চ ২০২৬ , ১০:১৮ এএম

অনলাইন সংস্করণ

কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলায় রান্নাঘরের চুলা জ্বালাতে গিয়ে ঘটে যাওয়া বিস্ফোরণে দগ্ধ হয়ে স্ত্রীর মৃত্যুর এক সপ্তাহের মাথায় এবার স্বামীও মারা গেছেন। শনিবার বিকেল চারটার দিকে রাজধানীর জাতীয় বার্ন প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

মৃত ব্যক্তির নাম জেলহক আহমেদ (৩৭) তিনি কুমিল্লার হোমনা উপজেলার রেহানা মজিদ কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষক ছিলেন। তাঁর বাড়ি বগুড়ার শেরপুর উপজেলার পালাসুন গ্রামে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তাঁর ভগ্নিপতি মোখলেছুর রহমান।

এর আগে গত শনিবার সকাল ছয়টার দিকে একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান জেলহকের স্ত্রী উম্মে হুমায়ারা (৩০) পরে সেদিন রাতেই বগুড়ার শাহজাহানপুর উপজেলার বাবুনিয়ামণ্ডলপাতা গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।

এই দুর্ঘটনায় আহত পরিবারের অন্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছে দম্পতির দেড় বছরের মেয়ে জান্নাত হুমায়ারা এবং উম্মে হুমায়ারার ফুফু মনোয়ারা বেগম। তাঁরা দুজনই এখনো জাতীয় বার্ন প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন আছেন।

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ভোর ছয়টার দিকে দাউদকান্দি পৌরসভার পশ্চিম মাইজপাড়া গ্রামের পিয়ার আলী নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ওই বাড়ির নিচতলার একটি ইউনিটে ভাড়া থাকতেন জেলহক তাঁর পরিবার।

নিহত উম্মে হুমায়ারার বড় ভাই খান জাহান আলী জানান, গত ২২ জানুয়ারি তাঁর বোন পরিবারসহ ওই বাসায় ভাড়াটে হিসেবে ওঠেন। ঘটনার দিন সকালে রান্নাঘরে চুলা জ্বালানোর সময় হঠাৎ বিস্ফোরণ ঘটে এবং পরিবারের চারজন দগ্ধ হন।

জাতীয় বার্ন প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন শাওন বিন রহমান বলেন, দগ্ধ অবস্থায় চারজনকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে জেলহক আহমেদের শরীরের ৫৪ শতাংশ এবং উম্মে হুমায়ারার শরীরের ৬৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল। এছাড়া শিশু জান্নাত হুমায়ারার শরীরের শতাংশ এবং মনোয়ারা বেগমের শরীরের শতাংশ দগ্ধ হয়।

চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টা সত্ত্বেও দম্পতির দুজনকেই বাঁচানো সম্ভব হয়নি। ঘটনার পর থেকে স্থানীয়ভাবে বিস্ফোরণের কারণ নিয়ে আলোচনা চলছে।

 

দেশজুড়ে/ সবুজ