ভোজশালা–কামাল মাওলানা কমপ্লেক্স নিয়ে হাইকোর্টের রায়, হিন্দুদের একক উপাসনার অধিকার

দেশজুড়ে ডেস্ক

দেশজুড়ে ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৫ মে ২০২৬ , ০৭:২৭ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

 

ভারতের মধ্যপ্রদেশ রাজ্যের ধার জেলার আলোচিত ভোজশালাকামাল মাওলানা মসজিদ কমপ্লেক্সকে ঘিরে গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছেন মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট। আদালত বিতর্কিত স্থাপনাটিকে সরস্বতী দেবীর মন্দির হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে ২০০৩ সালে জারি করা প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ বিভাগের (এএসআই) নির্দেশ বাতিল করেছেন। ওই নির্দেশনা অনুযায়ী মুসলিম সম্প্রদায় শুক্রবার জুমার নামাজ আদায়ের সুযোগ পেতেন।

শুক্রবার (১৫ মে) দেওয়া রায়ে আদালত বলেন, ভোজশালার সংরক্ষণ তত্ত্বাবধান এএসআইয়ের অধীনেই থাকবে। তবে ধর্মীয় আচার পালনের অধিকার হিন্দু পক্ষের কাছেই থাকবে।

 

বিচারপতি বিজয় কুমার শুক্লা অলোক আওয়াস্থি সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ রায়ে উল্লেখ করেন, ঐতিহাসিক দলিল সাহিত্য থেকে ধারণা পাওয়া যায় যে ভোজশালা একসময় সংস্কৃত শিক্ষাকেন্দ্র সরস্বতী দেবীর মন্দির ছিল। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, ওই স্থানে হিন্দুদের উপাসনা সম্পূর্ণভাবে কখনো বন্ধ হয়ে যায়নি।

 

আদালত আরও বলেন, পরমার রাজবংশের রাজা ভোজের সঙ্গে ভোজশালার ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে। ধারণা করা হয়, তিনি ১০১০ থেকে ১০৫৫ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে সেখানে সরস্বতী দেবীর মূর্তি স্থাপন করেছিলেন।

 

রায়ে মুসলিম সম্প্রদায়কে পৃথক স্থানে মসজিদ নির্মাণের জন্য রাজ্য সরকারের কাছে জমি চাওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।

 

এদিকে বর্তমানে ব্রিটিশ মিউজিয়াম- সংরক্ষিত সরস্বতী দেবীর প্রাচীন মূর্তিটি ভারতে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারকে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে আদালত। আবেদনকারীরা দীর্ঘদিন ধরে মূর্তিটি পুনরায় ভোজশালা কমপ্লেক্সে স্থাপনের দাবি জানিয়ে আসছিলেন।

 

এর আগে ২০২৪ সালের ১১ মার্চ হাইকোর্ট ভোজশালাকামাল মাওলানা কমপ্লেক্সে বৈজ্ঞানিক জরিপের নির্দেশ দেয়। পরে ২২ মার্চ জরিপ শুরু করে এএসআই। ৯৮ দিনের অনুসন্ধান শেষে জমা দেওয়া দুই হাজারের বেশি পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে সংস্থাটি দাবি করে, বর্তমান স্থাপনার আগে সেখানে পরমার রাজাদের আমলের একটি বৃহৎ স্থাপনা ছিল এবং বর্তমান কাঠামো নির্মাণে মন্দিরের বিভিন্ন উপাদান পুনর্ব্যবহার করা হয়েছে।

 

হিন্দু পক্ষের দাবি, জরিপে পাওয়া মুদ্রা, ভাস্কর্য শিলালিপি প্রমাণ করে এটি মূলত একটি মন্দির ছিল। তবে মুসলিম পক্ষ আদালতে এএসআইয়ের প্রতিবেদনকে পক্ষপাতদুষ্ট বলে অভিযোগ করে এবং দাবি করে, প্রতিবেদনটি হিন্দু আবেদনকারীদের দাবিকে সমর্থন করার উদ্দেশ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে।


দেশজুড়ে/সবুজ