দেশজুড়ে ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৪ মে ২০২৬ , ০৫:৪০ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
গাজীপুরের কাপাসিয়ায় স্ত্রী, তিন সন্তান ও শ্যালককে হত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত ফোরকান মিয়ার লাশ বলে ধারণা করা হচ্ছে—এমন একটি মরদেহ পদ্মা নদী থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে পুলিশ জানিয়েছে, ডিএনএ পরীক্ষার পরই লাশটির পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যাবে।
বৃহস্পতিবার
(১৪ মে) দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে Sharif Uddin জানান, পদ্মা সেতুর একটি সিসিটিভি ফুটেজে এক ব্যক্তিকে সেতুর
ওপর দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। কিছুক্ষণ পর ওই ব্যক্তি
নদীতে ঝাঁপ দেন। তার সঙ্গে একটি ব্যাগ ও কিছু কাপড়
ছিল বলেও জানা গেছে।
পুলিশ
সুপার বলেন, উদ্ধার হওয়া মরদেহটি ফোরকানের কিনা, তা এখনই নিশ্চিত
করে বলা যাচ্ছে না। পরিচয় শনাক্তে ডিএনএ পরীক্ষা করা হবে।
তিনি
আরও জানান, Criminal
Investigation Department (CID) পদ্মা
সেতুর ওপর থেকে একটি ব্যাগ ও জামাকাপড় উদ্ধার
করেছে, যা প্রাথমিকভাবে ফোরকানের
বলে শনাক্ত করা হয়েছে। এছাড়া এক ব্যক্তির কাছ
থেকে ফোরকানের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়েছে। ওই ব্যক্তি দাবি
করেছেন, মোবাইলটি তিনি পদ্মা সেতুর ওপর পড়ে থাকতে দেখেন।
পুলিশের
ধারণা, কাপাসিয়ার নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটানোর পর ফোরকান সেতু
থেকে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন। ঘটনার পর থেকেই তিনি
পলাতক ছিলেন এবং তাকে গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক দল অভিযান চালাচ্ছিল।
গত
শুক্রবার (৮ মে) রাতে
কাপাসিয়া উপজেলার রাউতকোনা গ্রামে একটি ভাড়া বাসায় ফোরকানের স্ত্রী শারমিন, তিন মেয়ে মীম (১৫), মারিয়া (৮), ফারিয়া (২) এবং শ্যালক
রসুল মিয়াকে গলা কেটে হত্যা করা হয়।
স্থানীয়
সূত্রে জানা যায়, ফোরকান পেশায় প্রাইভেটকার চালক ছিলেন। প্রায় এক বছর আগে
তিনি পরিবার নিয়ে ওই বাড়িতে ভাড়া
ওঠেন। হত্যাকাণ্ডের পরদিন সকালে তিনি আত্মীয়কে ফোন করে হত্যার কথা স্বীকার করে পালিয়ে যাওয়ার কথা জানান বলে অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনাস্থল
থেকে দেশীয় মদের খালি বোতল, রান্না করা পায়েশ ও কোমল পানীয়ের
বোতল উদ্ধার করে পুলিশ। এছাড়া কিছু প্রিন্ট করা কাগজও পাওয়া যায়, যেখানে পারিবারিক বিরোধ ও স্ত্রীর বিরুদ্ধে
আর্থিক অভিযোগের বিষয় উল্লেখ ছিল।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ ধারণা করছে, পারিবারিক কলহ ও ব্যক্তিগত বিরোধের জেরেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে। ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এরই মধ্যে দুজনকে আটক করা হয়েছে।