দেশজুড়ে ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০ মার্চ ২০২৬ , ০১:৫৫ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
বান্দরবানের
লামা উপজেলায় দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষের
জন্য পরিবার কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকালে
উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান
অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এ কর্মসূচির উদ্বোধন
করেন পার্বত্যবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান।
পাইলট
প্রকল্পের প্রথম ধাপে লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের
১ হাজার ৯৭টি পরিবারের মধ্যে পরিবার কার্ড বিতরণ করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে পার্বত্যবিষয়ক মন্ত্রী বলেন, দেশের প্রান্তিক ও হতদরিদ্র মানুষের
জীবনমান উন্নয়নে সরকার নানা সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। পরিবার কার্ড কর্মসূচির মাধ্যমে দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবারগুলো
সরাসরি সহায়তা পাবে, যা তাদের খাদ্য
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি আরও বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও সামাজিক নিরাপত্তা জোরদারে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। নিয়মিত সহায়তা পেলে দরিদ্র পরিবারগুলোর জীবনযাত্রা অনেকটাই স্বস্তিদায়ক হবে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এই কর্মসূচিতে ভূমিহীন,
প্রতিবন্ধী, তৃতীয় লিঙ্গ, বেদে সম্প্রদায়, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী এবং স্বল্প জমির মালিক পরিবারগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। পরিবার কার্ডধারীরা প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০
টাকা অথবা সমমূল্যের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পাবেন।
লামা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মঈন উদ্দিন জানান, প্রথম ধাপে ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে ১ হাজার ২৭৪ পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। যাচাই-বাছাইয়ের সময় ১৩৮ পরিবারের জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকায় তাদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয় এবং ৬১ জনের বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। পরে অবশিষ্ট ১ হাজার ৯৭টি পরিবারকে চূড়ান্তভাবে বাছাই করে কেন্দ্রীয় বাছাই কমিটির কাছে পাঠানো হয়।
বান্দরবানের জেলা প্রশাসক শামীম আরা রিনি বলেন, সরকারের এই উদ্যোগের মাধ্যমে
প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের
পরিবারগুলোর খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান-৩০০ আসনের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী। এছাড়াও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং উপকারভোগী পরিবারের সদস্যরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রথম ধাপে লামা উপজেলায় শুরু হওয়া এই পরিবার কার্ড কর্মসূচি সফল হলে পর্যায়ক্রমে উপজেলার অন্যান্য ইউনিয়নেও এটি সম্প্রসারণ করা হবে।