দেশজুড়ে, ডেস্ক
প্রকাশিত: ০২ মার্চ ২০২৬ , ০২:৩৬ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
ইরানের
নেতৃত্ব ও সামরিক স্থাপনা
লক্ষ্য করে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক সামরিক অভিযান শিগগিরই থামছে না বলে স্পষ্ট
বার্তা দিয়েছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। সংস্থাটির ভাষ্য,
চলমান অভিযানের গতি কমানোর কোনো পরিকল্পনা নেই।
আল
আরাবিয়া ইংলিশকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সেন্টকমের
মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স জানান, অভিযানের শুরুতেই এটিকে ‘অপ্রতিরোধ্য’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছিল এবং সেই লক্ষ্য নিয়েই তারা এগোচ্ছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে শুরু হওয়া ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র উদ্দেশ্য হিসেবে
তিনি ইরানি শাসনের হুমকি মোকাবিলা ও মার্কিন নাগরিকদের
নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা উল্লেখ করেন।
মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, বি-২ স্টিলথ
বোমারু বিমান ব্যবহার করে ইরানের ভূগর্ভস্থ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সংরক্ষণাগারসহ গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অবকাঠামোয় আঘাত হানা হয়েছে। সেন্টকমের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত দেশজুড়ে এক হাজারের বেশি
লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। এর মধ্যে ইসলামিক
রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর বিভিন্ন স্থাপনা,
কমান্ড সেন্টার, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি এবং নৌবাহিনীর সম্পদ রয়েছে বলে দাবি করা হয়।
তবে পাল্টা প্রতিক্রিয়াও এসেছে। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে ইরানের হামলায় অন্তত তিন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। আরও হতাহতের আশঙ্কার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযান দীর্ঘায়িত হলে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডার ও সরঞ্জাম সরবরাহ
নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও সেন্টকমের সাবেক কমান্ডার জেনারেল জোসেফ ভোটেল মনে করেন, প্রয়োজনীয় সম্পদ ও প্রস্তুতি মার্কিন
বাহিনীর রয়েছে। রাজনৈতিক নির্দেশনা বহাল থাকলে অভিযান চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা আছে বলেও তিনি মত দেন।
এদিকে ইরান ইসরাইল, সাইপ্রাসে অবস্থিত ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটি এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা হামলা চালিয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
চলমান সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সোমবার (২ মার্চ) বিশ্ববাজারে
লেনদেন শুরু হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। একই সঙ্গে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বিদেশে অবস্থানরত নাগরিকদের ওপর সম্ভাব্য প্রতিশোধমূলক হামলার আশঙ্কা করছে। বিশ্বজুড়ে মার্কিন স্থাপনাগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং স্টেট ডিপার্টমেন্ট নাগরিকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেও বিশেষ করে ওয়াশিংটন ডিসিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানো হয়েছে। এফবিআইয়ের কাউন্টার-টেররিজম ইউনিটগুলোকে উচ্চ সতর্কতায় রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।
সূত্র: আল আরাবিয়া