মিয়ানমারে প্রেসিডেন্ট পদে মিন অং হ্লাইংয়ের মনোনয়ন, নির্বাচনে জয়ের সম্ভাবনা প্রায় নিশ্চিত

প্রকাশিত: ৩০ মার্চ ২০২৬ , ০৭:৪০ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

মিয়ানমারের সামরিক প্রধান মিন অং হ্লাইংকে দেশের প্রেসিডেন্ট পদে আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। সোমবার নতুন পার্লামেন্ট অধিবেশনের শুরুতেই এই ঘোষণা আসে, যা দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে প্রধান বিরোধী দলগুলো অংশ নিতে না পারায় মিন অং হ্লাইংয়ের বিজয় প্রায় নিশ্চিত বলে মনে করা হচ্ছে। তার সঙ্গে আরও দুইজন অনুগত প্রার্থী মনোনয়ন পেলেও তাদের জয়ের সম্ভাবনা খুবই কম।

 

উল্লেখ্য, পাঁচ বছর আগে সংঘটিত মিয়ানমার সামরিক অভ্যুত্থান ২০২১এর পর থেকেই পশ্চিমা দেশগুলো মিন অং হ্লাইংয়ের ওপর বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। সেই অভ্যুত্থানের পর শুরু হওয়া সংঘর্ষে হাজারো মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। বর্তমানে দেশটির বিস্তীর্ণ এলাকা এখনো সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

 

সামরিক সরকার দাবি করছে, ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচন দেশকে স্থিতিশীলতার দিকে নিয়ে যাওয়ার একটি পদক্ষেপ। তবে সমালোচকরা এই নির্বাচনকেপ্রহসনহিসেবে অভিহিত করেছেন। তাদের মতে, জনপ্রিয় রাজনৈতিক দলগুলোকে বাইরে রেখে এবং গৃহযুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করায় তা গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছে।

 

নতুন পার্লামেন্টে প্রায় ৯০ শতাংশ সদস্যই সামরিক বাহিনীর ঘনিষ্ঠ বা তাদের সমর্থিত প্রার্থী। ফলে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মিন অং হ্লাইংয়ের পথ অনেকটাই সুগম হয়ে গেছে। চলতি সপ্তাহে পার্লামেন্টে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হবে।

 

দীর্ঘদিন ধরেই প্রেসিডেন্ট হওয়ার আকাঙ্ক্ষা পোষণ করে আসছেন মিন অং হ্লাইং। ২০২০ সালের নির্বাচনে সামরিক দলের ব্যর্থতার পরই রাজনৈতিক সংকট চরমে ওঠে, যা পরবর্তীতে সামরিক অভ্যুত্থানের পথ প্রশস্ত করে।

 

তবে প্রেসিডেন্ট পদে অধিষ্ঠিত হলে তাকে সংবিধান অনুযায়ী সেনাবাহিনী ছাড়তে হতে পারেযা সামরিক মহলে অসন্তোষ সৃষ্টি করতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় তিনি ইতোমধ্যে নিজের অনুগত জেনারেলদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানোর উদ্যোগ নিয়েছেন এবং একটি নতুন পরামর্শদাতা পরিষদ গঠন করেছেন, যাতে ক্ষমতার ওপর তার নিয়ন্ত্রণ অটুট থাকে।

 

বিশ্লেষকদের মতে, সামনে মিয়ানমারের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে, বিশেষ করে যখন দেশে এখনো সংঘাত অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে।