খামেনির মৃত্যুর পর নতুন মোড়—সামরিক সংঘাত ছাড়িয়ে আদর্শিক লড়াইয়ে ইরান

দেশজুড়ে ডেস্ক

দেশজুড়ে ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৯ মার্চ ২০২৬ , ০১:০১ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি জটিল রূপ নিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাত এখন শুধু সামরিক শক্তির লড়াই নয়, বরং গভীর আদর্শিক ও ধর্মতাত্ত্বিক সংঘর্ষে পরিণত হয়েছে।

 নর্থইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি লন্ডনের দর্শনের সহকারী অধ্যাপক হোসেইন দাব্বাগ বলেন, এ ধরনের বড় আঘাত ইরানকে দুর্বল করার বদলে অভ্যন্তরীণ ঐক্য আরও জোরদার করতে পারে। তার মতে, ইরানের রাষ্ট্রব্যবস্থা কেবল প্রশাসনিক কাঠামো নয়, বরং ‘শাহাদাত বা আত্মত্যাগের আদর্শে গড়ে ওঠা একটি নৈতিক প্রকল্প।

 

বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, শিয়া ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা কারবালার যুদ্ধের স্মৃতি ইরানের বর্তমান রাজনৈতিক বয়ানে বড় ভূমিকা রাখছে। তেহরান এই সংঘাতকে ‘ন্যায় বনাম অন্যায়-এর লড়াই হিসেবে তুলে ধরছে, যা জনগণের আবেগকে আরও উজ্জীবিত করছে।

 

সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুর পর দেশজুড়ে শোকানুষ্ঠান এবং আধাসামরিক বাহিনীর সদস্যদের কঠোর প্রতিজ্ঞা ইঙ্গিত দিচ্ছেএই যুদ্ধ এখন অস্ত্রের পাশাপাশি আদর্শিক টিকে থাকার প্রশ্নে রূপ নিয়েছে।

 

বিশ্লেষকদের ধারণা, পশ্চিমা দেশগুলো মনে করেছিল সামরিক চাপ ইরানকে ভেঙে ফেলবে। তবে বাস্তবে বৈদেশিক হামলা দেশটির ভেতরে এক ধরনের ‘অবরুদ্ধ মানসিকতা তৈরি করেছে, যা জনগণের ক্ষোভকে বাইরের শক্তির দিকে ঘুরিয়ে দিচ্ছে। এমনকি সরকারের সমালোচকরাও জাতীয়তাবাদের কারণে রাষ্ট্রের পাশে দাঁড়াতে বাধ্য হচ্ছেন।

 

এ প্রেক্ষাপটে ইরান দীর্ঘমেয়াদি ক্ষয়িষ্ণু যুদ্ধের কৌশল নিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এর লক্ষ্য হবে প্রতিপক্ষের রাজনৈতিক ধৈর্য পরীক্ষা করা, যদিও এতে নিজেদের বড় ক্ষতির ঝুঁকি রয়েছে।

 

অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘শর্তহীন আত্মসমর্পণ-এর দাবি পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের অবস্থান ইরানের ‘সাম্রাজ্যবাদবিরোধী বয়ানকে আরও শক্তিশালী করতে সহায়তা করছে।

 

সব মিলিয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামরিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও আদর্শিক দিক থেকে ইরান নতুন শক্তি অর্জন করতে


দেশজুড়ে/সবুজ