কাবুল-এর হাসপাতালে হামলা: শতাধিক নিহতের অভিযোগ আফগানিস্তান-এর, অস্বীকার পাকিস্তান-এর

দেশজুড়ে ডেস্ক

দেশজুড়ে ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৭ মার্চ ২০২৬ , ০৩:০৪ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল- একটি মাদকাসক্তি চিকিৎসা কেন্দ্রে ভয়াবহ বিমান হামলার ঘটনায় শতাধিক মানুষের হতাহতের আশঙ্কা করা হচ্ছে। হামলাকে ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে পুরো দেশে।

তালেবান সরকারের দাবি, সোমবার সন্ধ্যায় পরিচালিত এই হামলায় পাকিস্তানি বিমানবাহিনী জড়িত। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় দুই হাজার শয্যারওমিদহাসপাতাল লক্ষ্য করে বোমা হামলা চালানো হয়, যেখানে বিপুলসংখ্যক রোগী চিকিৎসাধীন ছিলেন। হামলায় হাসপাতালের বড় অংশ ধ্বংস হয়ে গেছে বলে জানা গেছে।

 

তালেবান সরকারের উপমুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরাত দাবি করেছেন, এই হামলায় অন্তত ৪০০ জন নিহত এবং প্রায় ২৫০ জন আহত হয়েছেন। তবে হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

 

অন্যদিকে, পাকিস্তান সরকার অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। দেশটির তথ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা কোনো হাসপাতাল লক্ষ্য করে হামলা চালায়নি। বরং কাবুল নানগারহার প্রদেশ-সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে সহায়তাকারী অবকাঠামোলক্ষ্য করে সামরিক অভিযান চালানো হয়েছে।

 

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিবিসি-এর সংবাদদাতা জানান, তিনি নিজ চোখে অন্তত ৩০টি মরদেহ দেখতে পেয়েছেন। হামলার পরও হাসপাতালের কিছু অংশে আগুন জ্বলছিল এবং চারপাশে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

 

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হামলার সময় সেখানে বিপুলসংখ্যক রোগী অবস্থান করছিলেন, ফলে হতাহতের সংখ্যা কয়েকশ ছাড়িয়ে যেতে পারে। আফগানিস্তানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হাসপাতালের আশপাশে কোনো সামরিক স্থাপনা ছিল না।

 

ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলেও প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। আফগানিস্তানের সাবেক নেতা আবদুল্লাহ আবদুল্লাহ হামলার নিন্দা জানিয়ে একে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছেন। একইভাবে, আফগান ক্রিকেট তারকা রশিদ খান ঘটনাকেঅত্যন্ত লজ্জাজনকবলে মন্তব্য করেছেন।

 

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, হামলার সময় কাবুলজুড়ে তীব্র বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এরপর আকাশে যুদ্ধবিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সক্রিয়তার শব্দও পাওয়া যায়।

 

উল্লেখ্য, আফগানিস্তান পাকিস্তানের মধ্যে সীমান্ত উত্তেজনা সাম্প্রতিক সময়ে আবারও বেড়েছে। দুই দেশ একে অপরের বিরুদ্ধে জঙ্গি গোষ্ঠীকে আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ করে আসছে। গত ফেব্রুয়ারি থেকে সীমান্ত সংঘর্ষে ইতোমধ্যে বহু হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।

 

এই হামলার পর দুই দেশের সম্পর্ক আরও জটিল হয়ে উঠবে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।

 

দেশজুড়ে/সবুজ