প্রকাশিত: ০৫ মার্চ ২০২৬ , ০৩:৫০ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
ইরানে
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সাম্প্রতিক
হামলা এবং এর জবাবে তেহরানের
পাল্টা আক্রমণ আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদের
পরিপন্থি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘের একটি স্বাধীন তদন্তকারী দল।
জাতিসংঘের
স্বাধীন আন্তর্জাতিক তথ্য-অনুসন্ধান মিশনের মতে, এসব সামরিক হামলা আন্তর্জাতিক আইনের সম্ভাব্য লঙ্ঘন এবং এতে ইরানের ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও রাজনৈতিক স্বাধীনতা
হুমকির মুখে পড়েছে।
তদন্তকারীরা
দক্ষিণ ইরানের মিনাব শহরের একটি মেয়েদের স্কুলে বিমান হামলার ঘটনাকে বিশেষভাবে উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেছেন। শাজারেহ তায়্যেবেহ বালিকা বিদ্যালয়ে চালানো ওই হামলায় ৭
থেকে ১২ বছর বয়সী
বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী নিহত হয় বলে প্রতিবেদনে
বলা হয়েছে। ঘটনাটিকে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ‘মর্মান্তিক উদাহরণ’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে তদন্তকারী দল।
জাতিসংঘের
আরেকটি প্যানেলের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে এখন
পর্যন্ত অন্তত ১৬০ জন শিশু নিহত
হয়েছে।
প্রতিবেদনে
আরও বলা হয়, চলমান বড় আকারের সামরিক
অভিযানের কারণে সাধারণ ইরানিরা চরম ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। একদিকে বিমান হামলা ও সামরিক অভিযান,
অন্যদিকে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে অভিযুক্ত সরকারের কঠোর অবস্থানের মধ্যে সাধারণ মানুষ আটকে পড়েছে।
এদিকে
২০২৫ সালের ২৮ ডিসেম্বর থেকে
আটক থাকা হাজার হাজার বিক্ষোভকারীর নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। বিশেষ করে তেহরানের এভিন কারাগারে আটক কয়েকজন বন্দির পরিস্থিতি নিয়ে আশঙ্কা রয়েছে।সেখানে বন্দি থাকা এক ব্রিটিশ দম্পতির
দাবি, সামরিক অভিযানের সময় কারাগারের তাদের অবস্থান করা অংশের কাছাকাছি বিস্ফোরণ ঘটে এবং এতে ভবনের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
তদন্ত
প্রতিবেদনে বিমান হামলায় বহু ইরানি কর্মকর্তার নিহত হওয়ার ঘটনাকেও সমালোচনা করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির নামও উল্লেখ করা হয়েছে।
জাতিসংঘের
তদন্তকারীরা বলেছেন, আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে কোনো কর্মকর্তাকে লক্ষ্য করে হত্যা করা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার গ্রহণযোগ্য পদ্ধতি নয়।
প্রতিবেদনে
আরও সতর্ক করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র–ইসরাইল–ইরান
সংঘাত চলতে থাকলে সাধারণ মানুষের ওপর মানবিক ক্ষয়ক্ষতি আরও বাড়তে পারে, যার সবচেয়ে ভয়াবহ প্রভাব পড়ছে শিশুদের ওপর।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘের তদন্তকারী দল।
দেশজুড়ে/সবুজ