দেশজুড়ে ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৬ মার্চ ২০২৬ , ০১:৫৬ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
মধ্যপ্রাচ্যে
ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা আরও তীব্র আকার ধারণ করছে। ইসরাইলি সামরিক বাহিনী
জানিয়েছে, ইরানের ভেতরে তাদের নজরদারিতে রয়েছে কয়েক হাজার সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু এবং
এসব স্থানের ওপর পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রাখা হচ্ছে।
ইসরাইলি
সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এফি ডেফরিন রোববার (১৫ মার্চ) বলেন, যুক্তরাষ্ট্র
ও ইসরাইলের যৌথ সামরিক অভিযান ইতোমধ্যে তৃতীয় সপ্তাহে প্রবেশ করেছে। প্রতিদিন নতুন
নতুন লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করা হচ্ছে এবং সে অনুযায়ী পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
তিনি
আরও জানান, ইহুদি ধর্মাবলম্বীদের গুরুত্বপূর্ণ উৎসব পাসওভার পর্যন্ত অন্তত তিন সপ্তাহের
সামরিক পরিকল্পনা প্রস্তুত রয়েছে। পাশাপাশি এর পরবর্তী সময়ের জন্যও আরও বিস্তৃত কৌশল
নির্ধারণ করে রাখা হয়েছে।
এদিকে
ইরান প্রতিবেশী দেশগুলোকে এই সংঘাতে জড়ানোর বিষয়ে সতর্ক করেছে। এমন সতর্কতার মধ্যেই
কুয়েতে অবস্থিত একটি মার্কিন ও ইতালীয় সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে
খবর পাওয়া গেছে।
তেহরানের
দাবি, প্রতিবেশী কয়েকটি দেশের মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য বিমান
হামলার উৎক্ষেপণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান গুরুত্বপূর্ণ
নৌপথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি পুনর্ব্যক্ত করেছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি
সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
উদ্ভূত
পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী
কিয়ার স্টারমার রোববার বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। ট্রাম্প হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা
নিশ্চিত করতে একটি আন্তর্জাতিক জোট গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন।
অন্যদিকে
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনালাপে
অন্যান্য দেশকে এমন কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল
করে তুলতে পারে।
সব মিলিয়ে কূটনৈতিক তৎপরতা চললেও মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
দেশজুড়ে/সবুজ