দেশজুড়ে ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৭ মার্চ ২০২৬ , ০২:০৬ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
তেহরান:
ইরানের প্রভাবশালী সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) ঘোষণা
দিয়েছে, এখন থেকে ১২ বছর বয়সী শিশুরাও যুদ্ধকালীন বিভিন্ন সহায়তামূলক কার্যক্রমে অংশ
নিতে পারবে। এ সিদ্ধান্ত ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
দেশটির
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে আইআরজিসির তেহরান শাখার সাংস্কৃতিক কর্মকর্তা
রহিম নাদালি জানান, ‘ফর ইরান’ নামে একটি বিশেষ উদ্যোগের আওতায় টহল,
চেকপয়েন্ট পরিচালনা এবং লজিস্টিক সহায়তার মতো কাজে শিশুদের যুক্ত করা হচ্ছে।
তার
দাবি, অনেক কম বয়সী শিশুই স্বেচ্ছায় অংশ নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছে। সেই প্রেক্ষিতে সহায়তামূলক
কাজের জন্য ন্যূনতম বয়স কমিয়ে ১২ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে এখন ১২ থেকে ১৩ বছর বয়সী
কিশোররা এসব কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবে।
তবে
এই ঘোষণার পরপরই শিশু অধিকার নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ
করেছে। তাদের মতে, শিশুদের এমন ঝুঁকিপূর্ণ নিরাপত্তা কার্যক্রমে যুক্ত করা আন্তর্জাতিক
আইনের পরিপন্থী এবং তাদের নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ।
মানবাধিকার
সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ইরানে এর আগেও বিভিন্ন ঘটনায় শিশুদের নিরাপত্তা কাজে ব্যবহারের
অভিযোগ রয়েছে। ২০২২ সালে মাহসা আমিনি-কে কেন্দ্র করে বিক্ষোভের সময়ও শিশুদের সামরিক
পোশাকে দায়িত্ব পালন করতে দেখা গিয়েছিল। এছাড়া ‘সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটস ইন ইরান’-এর তথ্যমতে, ২০১৬ সালের পর থেকে বিভিন্ন বিক্ষোভে নিরাপত্তা
বাহিনীর হাতে দুই শতাধিক শিশু নিহত হয়েছে।
আন্তর্জাতিক
মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এবং হিউম্যান রাইটস ওয়াচ-ও বিভিন্ন সময়ে
ইরানে শিশুদের আটক ও নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছে।
বিশেষজ্ঞরা
বলছেন, জাতিসংঘ-এর শিশু অধিকার সনদ অনুযায়ী শিশুদের সামরিক কাজে ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
এ অবস্থায় ইরানের নতুন এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক অঙ্গীকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
অধিকারকর্মীদের
মতে, দেশে ইতোমধ্যেই প্রায় ৩০ লাখ শিশু শ্রমিক রয়েছে। নতুন এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত
হলে শিশুদের জীবন ও নিরাপত্তা আরও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।