দেশজুড়ে ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৭ এপ্রিল ২০২৬ , ১১:১১ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
মধ্যপ্রাচ্যে
চলমান উত্তেজনা ও সংঘাতের জেরে
হরমুজ প্রণালী কার্যত অচল হয়ে পড়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে চরম অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এর সরাসরি প্রভাবে
ইউরোপ ও এশিয়ার শোধনাগারগুলোতে
নির্দিষ্ট মানের অপরিশোধিত তেলের দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে।
বাজার সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, বর্তমানে শোধনাগারগুলোকে প্রতি ব্যারেল তেলের জন্য প্রায় ১৫০ ডলার পর্যন্ত গুনতে হচ্ছে। এই মূল্য আন্তর্জাতিক ফিউচার মার্কেটের দামের চেয়েও বেশি, যা তাৎক্ষণিক সরবরাহ সংকটের গভীরতা স্পষ্ট করে।
বিশ্লেষকদের
মতে, চলমান সংঘাতের কারণে প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ২০
লাখ ব্যারেল তেল বৈশ্বিক সরবরাহ চেইন থেকে হারিয়ে গেছে, যা মোট সরবরাহের
প্রায় ১২ শতাংশ। হরমুজ
প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকেই এই
সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করে।
সরবরাহ
ঘাটতি পূরণে ইউরোপ ও এশিয়ার শোধনাগারগুলোর
মধ্যে এখন তীব্র প্রতিযোগিতা চলছে। বিকল্প উৎস হিসেবে আফ্রিকা ও ইউরোপের তেলের
ওপর চাপ বেড়ে যাওয়ায় সেখানকার বাজারেও দামের ঊর্ধ্বগতি দেখা যাচ্ছে।
আন্তর্জাতিক
বাজারে Brent Crude
Oil ফিউচারের দাম গত মাসে ব্যারেলপ্রতি
১১৯.৫০ ডলারে পৌঁছায়,
যা ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ। যদিও
২০০৮ সালের ১৪৭.৫০ ডলারের ঐতিহাসিক
রেকর্ড এখনো অতিক্রম করেনি, তবে তাৎক্ষণিক সরবরাহের ক্ষেত্রে বাস্তব বাজারে সেই রেকর্ড ইতোমধ্যেই ছাড়িয়ে গেছে।
জুন
মাসের সরবরাহ চুক্তিতেও দামের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে, যা সংকট দীর্ঘায়িত
হওয়ার আশঙ্কাকে আরও জোরালো করছে।
বিশেষজ্ঞদের
মতে, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা
দ্রুত কমে না এলে জ্বালানি
তেলের এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি
বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের নেতিবাচক
প্রভাব ফেলতে পারে। শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হওয়া থেকে শুরু করে ভোক্তা পর্যায়ে মূল্যস্ফীতি বাড়ার ঝুঁকিও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
**সূত্র:
আলজাজিরা**
1
2
3
4
5
6
7
8
9
10
1
2
3
4
5
6
7
8
9
10