দেশজুড়ে ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৮ মার্চ ২০২৬ , ০৮:০৮ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
আন্তর্জাতিক
নারী দিবস উপলক্ষে বিশ্বজুড়ে নারীর সংগ্রাম, সাফল্য ও অবদানের কথা
নতুন করে স্মরণ করা হচ্ছে। সভ্যতার সূচনা থেকে আজ পর্যন্ত শিক্ষা,
বিজ্ঞান, ব্যবসা, রাজনীতি ও মানবসেবাসহ সমাজের
নানা ক্ষেত্রে নারীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন।
ইতিহাসের
বিভিন্ন সময়ে নারীরা জ্ঞানচর্চা ও শিক্ষার প্রসারে
পথিকৃত হিসেবে কাজ করেছেন। ৮৫৯ খ্রিস্টাব্দে মরক্কোর ফেজ শহরে বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন Fatima al-Fihri।
তাঁর প্রতিষ্ঠিত University of al-Qarawiyyin আজও বিশ্বের প্রাচীনতম চলমান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত।
অন্যদিকে ইসলামের ইতিহাসে সফল ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তার উদাহরণ
হিসেবে পরিচিত Khadija bint Khuwaylid। তিনি
ব্যবসায়িক দক্ষতা ও নৈতিকতার এক
অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন।
বিজ্ঞান ও মহাকাশ অভিযানে
নারীর অবদানও উল্লেখযোগ্য। ১৯৬৩ সালে প্রথম নারী হিসেবে মহাকাশে পাড়ি জমান Valentina Tereshkova। তাঁর
এই অভিযাত্রা মহাকাশ গবেষণায় নারীর নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে। পরে মহাকাশ অভিযানে অংশ নিয়ে বিশ্বব্যাপী অনুপ্রেরণার প্রতীক হয়ে ওঠেন Kalpana Chawla।
অভিযাত্রা ও পর্বতারোহণেও নারীরা
অসাধারণ সাফল্য দেখিয়েছেন। ১৯৭৫ সালে বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ জয় করে ইতিহাস গড়েন Junko Tabei।
বর্তমানে মহাকাশ গবেষণা সংস্থা NASA-তেও
বহু নারী বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলী গুরুত্বপূর্ণ
দায়িত্ব পালন করছেন।
মানবসেবার ক্ষেত্রে বিশ্বব্যাপী অনুপ্রেরণার নাম Mother Teresa।
দরিদ্র ও অসহায় মানুষের
সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করার স্বীকৃতি হিসেবে তিনি ১৯৭৯ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করেন।
রাষ্ট্রনায়কত্ব ও নেতৃত্বেও নারীরা
শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন। যুক্তরাজ্যের দীর্ঘদিনের রাষ্ট্রপ্রধান ছিলেন Elizabeth II।
যুক্তরাজ্যের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পরিচিত Margaret Thatcher।
বাংলাদেশে তিনবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন Khaleda Zia।
এছাড়া জার্মানির দীর্ঘদিনের চ্যান্সেলর Angela Merkel, নিউজিল্যান্ডের
সাবেক প্রধানমন্ত্রী Jacinda Ardern, বিশ্বের
প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী Sirimavo Bandaranaike, ভারতের সাবেক
প্রধানমন্ত্রী Indira Gandhi এবং
আফ্রিকার প্রথম নির্বাচিত নারী রাষ্ট্রপতি Ellen Johnson Sirleaf—নারী নেতৃত্বের
উজ্জ্বল উদাহরণ।
বাংলাদেশেও উচ্চশিক্ষা ও প্রশাসনে নারীর
অংশগ্রহণ ক্রমেই বাড়ছে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী উপাচার্য, ট্রেজারার, ডিন ও বিভাগীয় প্রধান
হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ঢাকার Asian University of Bangladesh-এও নারী ট্রেজারার,
লাইব্রেরিয়ান, ট্রাস্টি ও সিন্ডিকেট সদস্যসহ
বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে নারীরা দায়িত্ব পালন করছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, নারী শুধু পরিবার বা সমাজের একটি
অংশ নন; তিনি একটি জাতির অগ্রযাত্রার অন্যতম শক্তি। আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে সমতা, সম্মান ও সমান সুযোগ
নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন বিভিন্ন মহল।
তাদের
মতে, জ্ঞানচর্চা থেকে নেতৃত্ব—সব ক্ষেত্রেই নারীর
অংশগ্রহণ নিশ্চিত হলে সমাজ ও মানবতার সামগ্রিক
উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হবে।