১০ মার্চ থেকে শুরু ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি, প্রান্তিক পরিবারকে মাসে ২,৫০০ টাকা সহায়তার পরিকল্পনা

দেশজুড়ে ডেস্ক

দেশজুড়ে ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৭ মার্চ ২০২৬ , ১১:৪২ এএম

অনলাইন সংস্করণ

প্রান্তিক নিম্ন আয়ের পরিবারকে সামাজিক সুরক্ষা দেওয়ার লক্ষ্যেফ্যামিলি কার্ডকর্মসূচি চালু করতে যাচ্ছে সরকার। আগামী ১০ মার্চ থেকে পরীক্ষামূলকভাবে কর্মসূচি শুরু হবে। ধাপে ধাপে দেশের সব পরিবারকে এই কার্ডের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

সরকারি নীতিপত্র অনুযায়ী, ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে প্রান্তিক নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোকে প্রতি মাসে হাজার ৫০০ টাকা অথবা সমমূল্যের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ভবিষ্যতে এই সহায়তার পরিমাণ বাড়ানো হতে পারে।

প্রাথমিকভাবেপাইলটিংবা পরীক্ষামূলক প্রকল্প হিসেবে দেশের ১৪টি স্থানে কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে রাজধানীর কড়াইল ভাষানটেক বস্তি, রাজবাড়ীর পাংশা, চট্টগ্রামের পটিয়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর, বান্দরবানের লামা, খুলনার খালিশপুর, ভোলার চরফ্যাশন, সুনামগঞ্জের দিরাই, কিশোরগঞ্জের ভৈরব, বগুড়া সদর, নাটোরের লালপুর, ঠাকুরগাঁও সদর এবং দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বেশির ভাগ এলাকায় জরিপ তথ্য সংগ্রহের কাজ শেষ হয়েছে। কার্ড মুদ্রণের কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ১০ মার্চ রাজধানীর কড়াইল বস্তিতে আনুষ্ঠানিকভাবে কর্মসূচির উদ্বোধন করা হবে। উদ্বোধনের দিনই সুবিধাভোগীদের মোবাইল ফোনে প্রথম মাসের নগদ সহায়তা পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির মূল দায়িত্বে থাকবে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়। তবে নারী শিশু, শিক্ষা, তথ্যপ্রযুক্তি, অর্থ পরিকল্পনাসহ মোট ১৪টি মন্ত্রণালয় বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় যুক্ত থাকবে।

নীতিমালা অনুযায়ী, পরিবারের মা অথবা নারীপ্রধানের নামে এই কার্ড ইস্যু করা হবে এবং কার্ডধারীর বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হবে। কার্ডে পরিবারের সদস্যদের প্রয়োজনীয় তথ্য সংরক্ষণ থাকবে। ভবিষ্যতে ২০৩০ সালের মধ্যে এটিকেসর্বজনীন সোশ্যাল আইডি কার্ড’- রূপান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে।

উপকারভোগী নির্বাচনে ভূমিহীন গৃহহীন পরিবার, প্রতিবন্ধী সদস্য থাকা পরিবার, নারীপ্রধান পরিবার এবং অনগ্রসর জনগোষ্ঠীকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। নির্বাচন প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ না রেখে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে পরিবারের আর্থিক অবস্থা নির্ধারণ করার কথা বলা হয়েছে।

প্রাথমিকভাবে চার মাসের প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৪০ হাজার পরিবারকে কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সময়ের জন্য সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩৮ কোটি টাকার বেশি। পরে দেশব্যাপী বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত হলে প্রয়োজন অনুযায়ী বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হবে।

অর্থনীতিবিদেরা বলছেন, দেশে বর্তমানে প্রায় ১০০টির মতো সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি রয়েছে, যেগুলো বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। ফ্যামিলি কার্ড চালু হলে এসব সহায়তা একক ব্যবস্থার আওতায় আনার সুযোগ তৈরি হবে। তবে বড় আকারে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অর্থায়ন একটি বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে।

 

দেশজুড়ে/ সবুজ