বিরতি, বেদনা ও বোধের কবিতায় সমকাল—চারটি ভিন্ন রূপ

দেশজুড়ে, ডেস্ক

দেশজুড়ে, ডেস্ক

প্রকাশিত: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ০১:০৬ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

সময়ের আবহে ব্যক্তিগত অনুভব, বিচ্ছেদ, মৃত্যু মুছে যাওয়ার আশঙ্কাএই চারটি সুরকে ধারণ করে নির্মিত হয়েছে চারটি পৃথক কবিতা: ‘চারুকেশী’, ‘নীল ব্যারেলিনা’, ‘হিমদোয়াতগন্ধ ভিন্ন ভিন্ন চিত্রকল্পে রচিত এসব কবিতায় উঠে এসেছে স্বপ্ন, শরীর-মন, শীতল বিদায় এবং অস্তিত্ব মুছে যাওয়ার আশঙ্কা।

 

স্বপ্ন অনুপস্থিতির ভেতরচারুকেশী
চারুকেশীকবিতায় অনুপস্থিত এক প্রিয় মুখ স্বপ্নের ভেতর ফিরে আসে। বাস্তবে দেখা না হলেও স্বপ্নে তার উপস্থিতি যেন জীবনের বিকল্প আশ্রয়। প্রশ্ন-উত্তর, গ্রাম-ফেরা, রিকশার মতো সাধারণ চিত্রের ভেতর কবি গেঁথেছেন গভীর আকুলতা। বিদায়ের মুহূর্তে শালপাতায় মোড়ানো স্মৃতি হীরামন পাখি প্রতীকে হারিয়ে যাওয়ার বেদনা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

 

শরীর-মন দ্বন্দ্বেনীল ব্যারেলিনা
নীল ব্যারেলিনাকবিতায় মানুষ শরীরের সম্পর্ক নিয়ে দার্শনিক প্রশ্ন উত্থাপন করা হয়েছে। আয়ু, সামাজিক প্রথা, আকাঙ্ক্ষা বঞ্চনার প্রসঙ্গ মিলিয়ে কবি তুলে ধরেছেন ভেতরের শূন্যতা।আমার মনে কিছু নেই, সবটাই যেন শরীর”— ধরনের উচ্চারণ মানুষে মানুষে ভেতরের শূন্যতা অস্তিত্বসংকটের দিকেই আঙুল তোলে। আর সহজ সেই পাহাড়কে অজানা রেখেই ফিরে আসার ইচ্ছা যেন সচেতন সংযম নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখার এক নীরব প্রতীক।

 

মৃত্যু অজানার পথেহিম
হিমকবিতায় লাশবাহী গাড়ির চিত্র দিয়ে শুরু হয় এক অনিবার্য যাত্রার কথা। গন্তব্য অজানা, পরিচয় অস্পষ্টতবু মানুষের জীবনের স্মৃতি, শৈশব, প্রেমের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন জাগে। শীতলতার মধ্যেও কবি কল্পনা করেন অন্য এক পৃথিবী, যেখানে হয়তো তুষারঝরা কোনো পাঠাগারে প্রিয় কবিতা পড়ছে সেমৃত্যুর পরও অনুভবের এক রূপক উপস্থিতি।

 

মুছে যাওয়ার আশঙ্কায়দোয়াতগন্ধ
দোয়াতগন্ধকবিতায় এক বিশাল ইরেজারের প্রতীকে উঠে আসে সবকিছু মুছে যাওয়ার ভয়। ভালো-মন্দ, গল্প, বেদনাসবই যদি ঘষে তুলে নেওয়া হয়, তবে কী থাকবে? তবু অন্ধকার গলিতে হারিয়ে গেলে কি সামান্য দোয়াতের গন্ধ টের পাওয়া যাবে না?—এই প্রশ্নে কবি স্মৃতি চিহ্নের অবিনাশী শক্তিকে ইঙ্গিত করেছেন।

 

চারটি কবিতাই ভিন্ন সুরে বাঁধা হলেও কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে মানুষ, তার অনুভব অনিত্যতার বোধ। প্রতীকী ভাষা চিত্রকল্পের ব্যবহারে কবিতাগুলো সমকালীন ভাবনার এক মৃদু কিন্তু গভীর প্রতিধ্বনি তুলে ধরে।

আমার মন নাই, পুরোটাই শরীর”—এমন স্বীকারোক্তির সম্ভাব

 

দেশজুড়ে/সবুজ